বর্ষার আগেই পদ্মা পাড়ে ভাঙন আতঙ্ক
- সর্বশেষ আপডেট ১১:০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / 65
মূল বর্ষা মৌসুম পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই তীব্র নদীভাঙনের কবলে পড়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন পদ্মা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ। মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার অন্তর্গত দিঘিরপাড় ইউনিয়নের কান্দারবাড়ি এলাকায় গত বছরও নদীভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। আর চলতি বছর বর্ষা আসার আগেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এই এলাকার আরও একটি নতুন অংশ। ফলে নদী তীরবর্তী সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পদ্মার হাত থেকে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে এবং এলাকায় একটি স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবিতে পদ্মা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে শত শত এলাকাবাসী এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। ভাঙন কবলিত কান্দারবাড়ি এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধের পাশাপাশি যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি জরুরি সেতু নির্মাণেরও জোরালো দাবি জানান মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পদ্মার এই অব্যাহত ও আকস্মিক ভাঙনের কারণে তাদের পৈতৃক বসতভিটা, শেষ সম্বল ফসলি জমি এবং এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে এলেই নদীপাড়ের অসহায় মানুষকে ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন-রাত পার করতে হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি কোনো স্থায়ী ও মজবুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, পদ্মা নদীতে একশ্রেণির প্রভাবশালী চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ এবং তলদেশে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটছে, যা মূলত এই নদীভাঙনের তীব্রতাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা। অন্যথায় সরকারের চলমান মূল নদী রক্ষা প্রকল্পটিও বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর এই তীব্র সংকটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক জানান, লৌহজং উপজেলা থেকে শুরু করে দিঘিরপাড় পর্যন্ত পদ্মার বাম তীর রক্ষা প্রকল্পের বড় ধরনের একটি কাজ বর্তমানে মাঠপর্যায়ে চলমান রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এই চলমান প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ করার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।
তবে কান্দারবাড়ি এলাকার সুনির্দিষ্ট এই নতুন ভাঙনরোধে হুট করে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের আগে নদীর বর্তমান গতিপ্রকৃতি এবং কারিগরি সম্ভাব্যতা গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। আর সেই কারণেই এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে আলাদা বা নতুন কোনো প্রকল্প নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।
প্রশাসনের এমন আশ্বাসের পরেও বর্ষা দিন দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কান্দারবাড়ি এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের মনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাদের শেষ কথা একটাই—সাময়িক কোনো জোড়াতালি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পদ্মার এই ভয়াল থাবা থেকে কোনোভাবেই রক্ষা পাবে না তাদের এই ঐতিহ্যবাহী নদীতীরবর্তী জনপদ।


















