ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্দান্ত বিশ্বকাপ শুরু

স্পোর্টস ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩২:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 71

প‍্যারাগুয়েকে সহজেই হারিয়ে বিশ্বকাপে স্বপ্নের শুরু পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এবারের বিশ্বমঞ্চের শুরুটা যেন একেবারে স্বপ্নের মতো হলো। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত লিড পাওয়ার পর পুরো ম্যাচে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। নিজেদের চিরচেনা মাঠে গতিময় ও দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে প্রথমার্ধেই আরও দুটি গোল আদায় করে নেয় তারা। এর ফলে প্রথমার্ধ শেষেই পুরোপুরি চালকের আসনে বসে যায় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মাওরিও পচেত্তিনোর শিষ্যদের সহজ জয় আটকাতে পারেনি।

বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার (১৩ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত ‘ডি’ গ্রুপের অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই ম্যাচে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয়োৎসব করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দলের হয়ে দুর্দান্ত এক জোড়া গোল করেছেন ফোলারান বালুগান, একটি গোল এসেছে জিওভানি রেইনার পা থেকে এবং অন্য গোলটি ছিল আত্মঘাতী।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সুদীর্ঘ ১৯৩০ সালের প্রথম আসরের পর এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চে একে অপরের মুখোমুখি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ে। ৯৬ বছর আগের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে বার্ট প্যাটেনডের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের ওপর ভর করে ৩-০ গোলে জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্যাটেনডের সেই অবিস্মরণীয় কীর্তির পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো একক ম্যাচে একাধিক গোল করার নজির গড়লেন দেশটির কোনো ফুটবলার।

ক্যালিফোর্নিয়ার চোখধাঁধানো সোফি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার দামিয়ান বোবাদিয়ার একটি আত্মঘাতী গোলের সুবাদে শুরুতেই এগিয়ে যায় সহ-আয়োজকরা। মাঝমাঠ থেকে পায়ের চমৎকার কারিকুরিতে বিপক্ষ দলের তিন জন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক বল বাড়িয়ে দেন সতীর্থ ওয়েস্টন ম্যাককেনিকে। তাঁর নেওয়া জোরালো শটটি ছুটে আসা প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার বোবাদিয়ার পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি জালে জড়ায়।

এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগের ওপর আক্রমণের তীব্র চাপ সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ ১৬ বছর পর পুনরায় বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া লাতিন আমেরিকার দেশটি পুলিসিক ও ম্যাককেনিদের একের পর এক আক্রমণ কোনোমতে ঠেকিয়ে রাখছিল। ম্যাচের ২৮তম মিনিটে ফরোয়ার্ড বালুগান প্যারাগুয়ের জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে রেফারি সেই গোলটি বাতিল করে দেন।

তবে নিজের প্রথম গোলের জন্য বালুগানকে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ৩১তম মিনিটে পুলিসিকের নেওয়া একটি নিখুঁত ও চমৎকার ক্রস থেকে পেনাল্টি স্পটের একদম কাছাকাছি দাঁড়িয়ে দারুণ শটে জাল খুঁজে নেন মোনাকোর এই তারকা ফরোয়ার্ড। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+) চমৎকার এক ফিনিশিংয়ে দলের স্কোরলাইন ৩-০ করেন তিনি। সতীর্থ মালিক তিলমানের রক্ষণ চেরা পাস ধরে রক্ষণভাগের ডিফেন্ডারের কড়া চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন এবং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বাঁকানো শটে গোল করেন। দেশের জার্সিতে এটি ছিল বালুগানের ১১তম আন্তর্জাতিক গোল।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দলের সেরা তারকা পুলিসিক আর মাঠে নামেননি, তবে তাতেও স্বাগতিকদের আক্রমণের ধার কমেনি। খেলার ধারার সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে প্যারাগুয়ের পক্ষে একমাত্র ব্যবধান কমানো গোলটি করেন মাওরিও, যেখানে অ্যাসিস্ট ছিল হুলিও এন্সিসকোর। তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে অর্থাৎ যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে (৯৭ মিনিটে) বল পায়ে ডি-বক্সে ঢুকে দূরের পোস্ট দিয়ে দুর্দান্ত এক গোল করেন রেইনা। টানা ২৬টি পাসের চমৎকার সমন্বয়ে তৈরি হওয়া এই নান্দনিক গোলটির পরপরই রেফারির শেষ বাঁশি বাজে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্দান্ত বিশ্বকাপ শুরু

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩২:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এবারের বিশ্বমঞ্চের শুরুটা যেন একেবারে স্বপ্নের মতো হলো। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত লিড পাওয়ার পর পুরো ম্যাচে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। নিজেদের চিরচেনা মাঠে গতিময় ও দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে প্রথমার্ধেই আরও দুটি গোল আদায় করে নেয় তারা। এর ফলে প্রথমার্ধ শেষেই পুরোপুরি চালকের আসনে বসে যায় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মাওরিও পচেত্তিনোর শিষ্যদের সহজ জয় আটকাতে পারেনি।

বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার (১৩ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত ‘ডি’ গ্রুপের অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই ম্যাচে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয়োৎসব করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দলের হয়ে দুর্দান্ত এক জোড়া গোল করেছেন ফোলারান বালুগান, একটি গোল এসেছে জিওভানি রেইনার পা থেকে এবং অন্য গোলটি ছিল আত্মঘাতী।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সুদীর্ঘ ১৯৩০ সালের প্রথম আসরের পর এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চে একে অপরের মুখোমুখি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ে। ৯৬ বছর আগের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে বার্ট প্যাটেনডের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের ওপর ভর করে ৩-০ গোলে জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্যাটেনডের সেই অবিস্মরণীয় কীর্তির পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো একক ম্যাচে একাধিক গোল করার নজির গড়লেন দেশটির কোনো ফুটবলার।

ক্যালিফোর্নিয়ার চোখধাঁধানো সোফি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার দামিয়ান বোবাদিয়ার একটি আত্মঘাতী গোলের সুবাদে শুরুতেই এগিয়ে যায় সহ-আয়োজকরা। মাঝমাঠ থেকে পায়ের চমৎকার কারিকুরিতে বিপক্ষ দলের তিন জন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক বল বাড়িয়ে দেন সতীর্থ ওয়েস্টন ম্যাককেনিকে। তাঁর নেওয়া জোরালো শটটি ছুটে আসা প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার বোবাদিয়ার পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি জালে জড়ায়।

এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগের ওপর আক্রমণের তীব্র চাপ সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ ১৬ বছর পর পুনরায় বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া লাতিন আমেরিকার দেশটি পুলিসিক ও ম্যাককেনিদের একের পর এক আক্রমণ কোনোমতে ঠেকিয়ে রাখছিল। ম্যাচের ২৮তম মিনিটে ফরোয়ার্ড বালুগান প্যারাগুয়ের জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে রেফারি সেই গোলটি বাতিল করে দেন।

তবে নিজের প্রথম গোলের জন্য বালুগানকে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ৩১তম মিনিটে পুলিসিকের নেওয়া একটি নিখুঁত ও চমৎকার ক্রস থেকে পেনাল্টি স্পটের একদম কাছাকাছি দাঁড়িয়ে দারুণ শটে জাল খুঁজে নেন মোনাকোর এই তারকা ফরোয়ার্ড। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+) চমৎকার এক ফিনিশিংয়ে দলের স্কোরলাইন ৩-০ করেন তিনি। সতীর্থ মালিক তিলমানের রক্ষণ চেরা পাস ধরে রক্ষণভাগের ডিফেন্ডারের কড়া চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন এবং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বাঁকানো শটে গোল করেন। দেশের জার্সিতে এটি ছিল বালুগানের ১১তম আন্তর্জাতিক গোল।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দলের সেরা তারকা পুলিসিক আর মাঠে নামেননি, তবে তাতেও স্বাগতিকদের আক্রমণের ধার কমেনি। খেলার ধারার সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে প্যারাগুয়ের পক্ষে একমাত্র ব্যবধান কমানো গোলটি করেন মাওরিও, যেখানে অ্যাসিস্ট ছিল হুলিও এন্সিসকোর। তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে অর্থাৎ যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে (৯৭ মিনিটে) বল পায়ে ডি-বক্সে ঢুকে দূরের পোস্ট দিয়ে দুর্দান্ত এক গোল করেন রেইনা। টানা ২৬টি পাসের চমৎকার সমন্বয়ে তৈরি হওয়া এই নান্দনিক গোলটির পরপরই রেফারির শেষ বাঁশি বাজে।