ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত সদস্যদের ১২ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে চার নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 62

জামায়াত সদস্যদের ১২ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে চার নেতা

কুড়িগ্রামে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে ব্যবসা পরিচালনার কথা বলে প্রায় ১৫০ জন জামায়াত সদস্যের কাছ থেকে নেওয়া ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দলটির চার নেতার বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘মজলুম পরিবার’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে মো. তৈয়ব আলী, নোমান বিল্লাহ, মাহফুজুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, রুহুল আমীন ও মোসলেমা বেগমসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২০ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট), জামায়াতের রোকন আব্দুস সালাম সুজা (ফুলবাড়ী) এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের বায়তুল মাল সদস্য রফিকুল ইসলাম (ভোগডাঙ্গা) ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে কুড়িগ্রামের প্রায় ১৫০ জন জামায়াত সদস্যের কাছ থেকে ওই চারজন ১২ কোটি টাকা নেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। তাদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগের লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরত দেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগীরা জানান, পাওনা টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার পাননি। এতে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

তাদের দাবি, বিষয়টি জেলা জামায়াতের আমিরকে জানানো হলে অভিযুক্তদের দলীয় সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। তবে আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই উদ্যোগেও সমাধান না হওয়ায় পরে চার নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগীরা।

মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হলেও তাদের গ্রেপ্তারে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের ১২ কোটি টাকা ফেরতের দাবি জানান। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও করেন তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ বলেন, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত ব্যবসা। ২০২০ সালে ভবিষ্যতে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে তিনি, রফিকুল ইসলাম, আব্দুস সালাম সুজা ও রফিকুল ইসলামের মধ্যে একটি যৌথ চুক্তি হয়েছিল। তবে ওই চুক্তির ভিত্তিতে কোনো ব্যবসা শুরু হয়নি। তাকে ফাঁসাতে সেই চুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে অভিযুক্ত কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি, শাহজালাল সবুজ, আব্দুস সালাম সুজা ও রফিকুল ইসলাম চুক্তির মাধ্যমে চারজন পরিচালক হিসেবে ব্যবসাটি শুরু করেন। চুক্তির বাইরে রুহুল আমীন ও মাওলানা জাহিদুল ইসলামও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার দাবি, ছয় পরিচালকই ব্যবসা থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ভিশন এন্টারপ্রাইজের লাভ-ক্ষতির দায় ছয় পরিচালকেরই বহন করার কথা ছিল। ভুক্তভোগীদের আমানত ফেরতের বিষয়ে অন্য পরিচালকদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী তাকে একক ক্ষমতা দেওয়ায় ব্যাংকের বিভিন্ন চেকে তার স্বাক্ষর রয়েছে। এ কারণে তার একক নামে ৪০টির বেশি মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে একটি মামলায় পরিচালকদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে চার নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম শাখার আমির আজিজুর রহমান স্বপন।

তিনি বলেন, অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির তদন্তের ভিত্তিতে রফিকুল ইসলামের রোকনিয়াত স্থায়ীভাবে মুলতবি করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শাহজালাল সবুজের রোকনিয়াত দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

তবে অন্য দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তেমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি। ভুক্তভোগীদের পাওনা টাকা ফেরতের বিষয়ে ন্যায়সংগত ও আইনসম্মত যেকোনো পদক্ষেপে জামায়াতে ইসলামী পাশে থাকবে বলেও জানান আজিজুর রহমান স্বপন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জামায়াত সদস্যদের ১২ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে চার নেতা

সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রামে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে ব্যবসা পরিচালনার কথা বলে প্রায় ১৫০ জন জামায়াত সদস্যের কাছ থেকে নেওয়া ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দলটির চার নেতার বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘মজলুম পরিবার’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে মো. তৈয়ব আলী, নোমান বিল্লাহ, মাহফুজুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, রুহুল আমীন ও মোসলেমা বেগমসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২০ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট), জামায়াতের রোকন আব্দুস সালাম সুজা (ফুলবাড়ী) এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের বায়তুল মাল সদস্য রফিকুল ইসলাম (ভোগডাঙ্গা) ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে কুড়িগ্রামের প্রায় ১৫০ জন জামায়াত সদস্যের কাছ থেকে ওই চারজন ১২ কোটি টাকা নেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। তাদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগের লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরত দেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগীরা জানান, পাওনা টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার পাননি। এতে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

তাদের দাবি, বিষয়টি জেলা জামায়াতের আমিরকে জানানো হলে অভিযুক্তদের দলীয় সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। তবে আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই উদ্যোগেও সমাধান না হওয়ায় পরে চার নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগীরা।

মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হলেও তাদের গ্রেপ্তারে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের ১২ কোটি টাকা ফেরতের দাবি জানান। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও করেন তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ বলেন, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত ব্যবসা। ২০২০ সালে ভবিষ্যতে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে তিনি, রফিকুল ইসলাম, আব্দুস সালাম সুজা ও রফিকুল ইসলামের মধ্যে একটি যৌথ চুক্তি হয়েছিল। তবে ওই চুক্তির ভিত্তিতে কোনো ব্যবসা শুরু হয়নি। তাকে ফাঁসাতে সেই চুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে অভিযুক্ত কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি, শাহজালাল সবুজ, আব্দুস সালাম সুজা ও রফিকুল ইসলাম চুক্তির মাধ্যমে চারজন পরিচালক হিসেবে ব্যবসাটি শুরু করেন। চুক্তির বাইরে রুহুল আমীন ও মাওলানা জাহিদুল ইসলামও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার দাবি, ছয় পরিচালকই ব্যবসা থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ভিশন এন্টারপ্রাইজের লাভ-ক্ষতির দায় ছয় পরিচালকেরই বহন করার কথা ছিল। ভুক্তভোগীদের আমানত ফেরতের বিষয়ে অন্য পরিচালকদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী তাকে একক ক্ষমতা দেওয়ায় ব্যাংকের বিভিন্ন চেকে তার স্বাক্ষর রয়েছে। এ কারণে তার একক নামে ৪০টির বেশি মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে একটি মামলায় পরিচালকদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে চার নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম শাখার আমির আজিজুর রহমান স্বপন।

তিনি বলেন, অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির তদন্তের ভিত্তিতে রফিকুল ইসলামের রোকনিয়াত স্থায়ীভাবে মুলতবি করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শাহজালাল সবুজের রোকনিয়াত দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

তবে অন্য দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তেমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি। ভুক্তভোগীদের পাওনা টাকা ফেরতের বিষয়ে ন্যায়সংগত ও আইনসম্মত যেকোনো পদক্ষেপে জামায়াতে ইসলামী পাশে থাকবে বলেও জানান আজিজুর রহমান স্বপন।