ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় প্রতিপক্ষের হামলায় কলেজশিক্ষার্থী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:২০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / 13

গাইবান্ধায় প্রতিপক্ষের হামলায় কলেজশিক্ষার্থী নিহত

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় বসতভিটার সীমানা সংক্রান্ত পারিবারিক বা প্রতিবেশীদের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের অতর্কিত ও পরিকল্পিত হামলায় রুমন নামের এক কলেজশিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। বর্বরোচিত এই হামলায় নিহতের আপন বড় ভাইও গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত রোববার (৭ জুন) রাতে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ত্রিমোহনী পেয়ারাপুর গ্রামে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা সদরের ত্রিমোহনী পেয়ারাপুর এলাকায় বাড়ির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে রুমনের পরিবারের সঙ্গে প্রতিপক্ষের এক পক্ষের দীর্ঘ দিন ধরে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন রাতে সেই বিতর্কিত সীমানায় একটি প্রাচীর বা দেয়াল নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রথমে তুমুল বাকবিতণ্ডা ও কথাকাটাকাটি শুরু হয়।

কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে রুমনের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের উপর্যুপরি আঘাতে কলেজশিক্ষার্থী রুমন মারাত্মকভাবে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

ঠিক ওই মুহূর্তে ছোট ভাই রুমনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তাঁর বড় ভাই। কিন্তু হামলাকারীরা তাঁকেও ছাড় দেয়নি; প্রতিপক্ষের লাঠির শক্ত আঘাত এবং ধারালো অস্ত্রের নৃশংস কোপে তিনিও গুরুতর জখম হন।

রক্তক্ষয়ী এই মারামারি ও চিৎকার শুনে আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় কলেজশিক্ষার্থী রুমনসহ বাকি আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। নিহতের মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়ার জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ও অভিযুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে এবং বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গাইবান্ধায় প্রতিপক্ষের হামলায় কলেজশিক্ষার্থী নিহত

সর্বশেষ আপডেট ০২:২০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় বসতভিটার সীমানা সংক্রান্ত পারিবারিক বা প্রতিবেশীদের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের অতর্কিত ও পরিকল্পিত হামলায় রুমন নামের এক কলেজশিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। বর্বরোচিত এই হামলায় নিহতের আপন বড় ভাইও গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত রোববার (৭ জুন) রাতে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ত্রিমোহনী পেয়ারাপুর গ্রামে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা সদরের ত্রিমোহনী পেয়ারাপুর এলাকায় বাড়ির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে রুমনের পরিবারের সঙ্গে প্রতিপক্ষের এক পক্ষের দীর্ঘ দিন ধরে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন রাতে সেই বিতর্কিত সীমানায় একটি প্রাচীর বা দেয়াল নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রথমে তুমুল বাকবিতণ্ডা ও কথাকাটাকাটি শুরু হয়।

কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে রুমনের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের উপর্যুপরি আঘাতে কলেজশিক্ষার্থী রুমন মারাত্মকভাবে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

ঠিক ওই মুহূর্তে ছোট ভাই রুমনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তাঁর বড় ভাই। কিন্তু হামলাকারীরা তাঁকেও ছাড় দেয়নি; প্রতিপক্ষের লাঠির শক্ত আঘাত এবং ধারালো অস্ত্রের নৃশংস কোপে তিনিও গুরুতর জখম হন।

রক্তক্ষয়ী এই মারামারি ও চিৎকার শুনে আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় কলেজশিক্ষার্থী রুমনসহ বাকি আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। নিহতের মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়ার জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ও অভিযুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে এবং বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।