ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন ইউনূসকে চাননি ওয়াকার?

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 1009

কেন ইউনূসকে চাননি ওয়াকার?

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রথমে মেনে নিতে চাননি সে দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান; এমন দাবি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

সম্প্রতি প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসিফ নজরুল বলেন, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সকালে সেনাসদরে তাকে ডেকে পাঠান সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কে হবেন, সে বিষয়ে আলোচনা হয়।

আসিফের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসের নাম প্রস্তাব করা হয়। প্রথমে তিনি মনে করেছিলেন, ইউনূস এ দায়িত্ব নিতে রাজি হবেন না। তবে ছাত্রনেতারা জানান, তারা ইতোমধ্যে ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তিনি সম্মতি দিয়েছেন।

পরদিন সেনাসদরে বৈঠকে আসিফ নজরুল সেনাপ্রধানকে জানান, ছাত্রদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউনূসই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। তখন সেনাপ্রধান দুটি আপত্তির কথা তোলেন। প্রথমত, শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ইউনূস দণ্ডিত হয়েছেন। দ্বিতীয়ত, তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যেকোনো ব্যক্তিকে মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব। তার দাবি, এসব মামলা ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ। তিনি আরও বলেন, দেশ-বিদেশে সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে ইউনূসের বিকল্প নেই।

আসিফের দাবি, পরে সেনাপ্রধান বায়ুসেনা ও নৌবাহিনীর তৎকালীন প্রধানদেরও আলোচনায় যুক্ত করেন এবং তার মনে হয়েছিল, সেনাপ্রধান শেষ পর্যন্ত বিষয়টি মেনে নিয়েছিলেন।

তবে ওই দিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের বৈঠকে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। আসিফ জানান, সেখানে সেনাপ্রধান ছাত্রনেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। তার ধারণা, ইউনূস ছাড়া অন্য কাউকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

তিনি বলেন, বৈঠকের আগে ছাত্রনেতাদের স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছিলেন, ইউনূস ছাড়া অন্য কাউকে মেনে না নিতে। পরে ছাত্রনেতারা তাকে জানান, তারা তাদের অবস্থানে অনড় ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সেনাপ্রধানও ইউনূসের নাম মেনে নেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় মুহাম্মদ ইউনূসকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। পরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার পর সেই রায় বাতিল হয়। একই বছরের জুনে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের আরেকটি মামলাও হয়। সে সময় ইউনূসপন্থীরা অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এসব মামলা করা হয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে আসিফ নজরুল অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, মব নিয়ন্ত্রণ, মামলায় ভুয়া আসামি রাখার সংস্কৃতি বন্ধ করা, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর ওপর হামলা ঠেকানো, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ভাঙচুর প্রতিরোধ এবং হামের টিকা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সরকার প্রত্যাশিত সফলতা দেখাতে পারেনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কেন ইউনূসকে চাননি ওয়াকার?

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রথমে মেনে নিতে চাননি সে দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান; এমন দাবি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

সম্প্রতি প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসিফ নজরুল বলেন, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সকালে সেনাসদরে তাকে ডেকে পাঠান সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কে হবেন, সে বিষয়ে আলোচনা হয়।

আসিফের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসের নাম প্রস্তাব করা হয়। প্রথমে তিনি মনে করেছিলেন, ইউনূস এ দায়িত্ব নিতে রাজি হবেন না। তবে ছাত্রনেতারা জানান, তারা ইতোমধ্যে ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তিনি সম্মতি দিয়েছেন।

পরদিন সেনাসদরে বৈঠকে আসিফ নজরুল সেনাপ্রধানকে জানান, ছাত্রদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউনূসই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। তখন সেনাপ্রধান দুটি আপত্তির কথা তোলেন। প্রথমত, শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ইউনূস দণ্ডিত হয়েছেন। দ্বিতীয়ত, তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যেকোনো ব্যক্তিকে মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব। তার দাবি, এসব মামলা ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ। তিনি আরও বলেন, দেশ-বিদেশে সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে ইউনূসের বিকল্প নেই।

আসিফের দাবি, পরে সেনাপ্রধান বায়ুসেনা ও নৌবাহিনীর তৎকালীন প্রধানদেরও আলোচনায় যুক্ত করেন এবং তার মনে হয়েছিল, সেনাপ্রধান শেষ পর্যন্ত বিষয়টি মেনে নিয়েছিলেন।

তবে ওই দিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের বৈঠকে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। আসিফ জানান, সেখানে সেনাপ্রধান ছাত্রনেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। তার ধারণা, ইউনূস ছাড়া অন্য কাউকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

তিনি বলেন, বৈঠকের আগে ছাত্রনেতাদের স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছিলেন, ইউনূস ছাড়া অন্য কাউকে মেনে না নিতে। পরে ছাত্রনেতারা তাকে জানান, তারা তাদের অবস্থানে অনড় ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সেনাপ্রধানও ইউনূসের নাম মেনে নেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় মুহাম্মদ ইউনূসকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। পরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার পর সেই রায় বাতিল হয়। একই বছরের জুনে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের আরেকটি মামলাও হয়। সে সময় ইউনূসপন্থীরা অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এসব মামলা করা হয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে আসিফ নজরুল অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, মব নিয়ন্ত্রণ, মামলায় ভুয়া আসামি রাখার সংস্কৃতি বন্ধ করা, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর ওপর হামলা ঠেকানো, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ভাঙচুর প্রতিরোধ এবং হামের টিকা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সরকার প্রত্যাশিত সফলতা দেখাতে পারেনি।