ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালকিনি চরে জবাই করা হরিণ উদ্ধার, আদালতে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:১৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 57

কালকিনি চরে জবাই করা হরিণ উদ্ধার, আদালতে মামলা

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা নদীর কালকিনি চরে জবাই করা অবস্থায় একটি পূর্ণবয়স্ক চিত্রা হরিণ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চরফ্যাশন উপজেলা আদালতে মামলা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালকিনি চরের বনাঞ্চলে অভিযান চালায় বন বিভাগের একটি দল। চরফ্যাশন রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে শিকারিদের ফাঁদ বা আস্তানা থেকে জবাই করা হরিণটি উদ্ধার করা হয়।

বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এ সময় হরিণের মাংস ও চামড়া ফেলে রেখে তারা গহীন বনে চলে যায়। ফলে কাউকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বিট কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিন জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ৬ আগস্ট চরফ্যাশন উপজেলা আদালতে একটি নালিশি মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হরিণটির মরদেহ চরের মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।

তবে স্থানীয়ভাবে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও নানা অভিযোগ ও আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, চোরাশিকারিদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা জানান, চরফ্যাশনের চর কুকরি-মুকরি, ঢালচর ও কালকিনি চরের বনাঞ্চল হরিণের বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। জোয়ারের পানিতে হরিণ ভেসে আসা এবং বন বিভাগের জনবল সংকটের সুযোগে এসব এলাকায় চোরাশিকারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে তাদের অভিযোগ।

হরিণ জবাইয়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

বন বিভাগ জানিয়েছে, পলাতক শিকারিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি চরাঞ্চলে বন্যপ্রাণী রক্ষায় টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কালকিনি চরে জবাই করা হরিণ উদ্ধার, আদালতে মামলা

সর্বশেষ আপডেট ১২:১৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা নদীর কালকিনি চরে জবাই করা অবস্থায় একটি পূর্ণবয়স্ক চিত্রা হরিণ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চরফ্যাশন উপজেলা আদালতে মামলা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালকিনি চরের বনাঞ্চলে অভিযান চালায় বন বিভাগের একটি দল। চরফ্যাশন রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে শিকারিদের ফাঁদ বা আস্তানা থেকে জবাই করা হরিণটি উদ্ধার করা হয়।

বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এ সময় হরিণের মাংস ও চামড়া ফেলে রেখে তারা গহীন বনে চলে যায়। ফলে কাউকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বিট কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিন জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ৬ আগস্ট চরফ্যাশন উপজেলা আদালতে একটি নালিশি মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হরিণটির মরদেহ চরের মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।

তবে স্থানীয়ভাবে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও নানা অভিযোগ ও আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, চোরাশিকারিদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা জানান, চরফ্যাশনের চর কুকরি-মুকরি, ঢালচর ও কালকিনি চরের বনাঞ্চল হরিণের বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। জোয়ারের পানিতে হরিণ ভেসে আসা এবং বন বিভাগের জনবল সংকটের সুযোগে এসব এলাকায় চোরাশিকারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে তাদের অভিযোগ।

হরিণ জবাইয়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

বন বিভাগ জানিয়েছে, পলাতক শিকারিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি চরাঞ্চলে বন্যপ্রাণী রক্ষায় টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।