ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইনস্ট্যান্ট ‘কফি’র সাথে তরুণদের তুলনা করলেন শিক্ষামন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 23

AI/প্রতীকী ছবি

বর্তমান প্রজন্মের আচরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘ইনস্ট্যান্ট কফি’র উপমা টানলেন শিক্ষামন্ত্রী—যেখানে দ্রুত প্রতিক্রিয়া আছে, কিন্তু গভীর মনোযোগের ঘাটতি স্পষ্ট বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতায় তরুণদের গভীর চিন্তা ও বিশ্লেষণ কমে যাচ্ছে—এমন আশঙ্কাও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ।

রোববার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রসঙ্গ তোলেন।

দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ তরুণ—এই বাস্তবতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বড় অংশ যদি ধৈর্য হারায়, তাহলে তার প্রভাব ভবিষ্যতের ওপর পড়তেই পারে।

তরুণদের মানসিক প্রবণতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম অনেকটাই ‘ইনস্ট্যান্ট কফি’র মতো আচরণ করছে—দ্রুত মন্তব্য, দ্রুত প্রতিক্রিয়া; কিন্তু বিষয়কে সময় নিয়ে বোঝার আগ্রহ কম। তিনি উল্লেখ করে বলেন, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রকে দুর্বল করে দিতে পারে।

একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অভ্যস্ত একটি প্রজন্ম নিয়ে জ্ঞানভিত্তিক অগ্রগতি কতটা সম্ভব।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে তিনি কিছুটা উদ্বেগও প্রকাশ করেন। তরুণদের একটি অংশের কাছে ‘ভাইরাল’ হওয়াই যেন লক্ষ্য হয়ে উঠছে—এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে তিনি যোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে শালীনতার সীমা ভেঙে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পোশাক পরে অযাচিত মন্তব্য কিংবা লাইভে অসংলগ্ন বক্তব্য দেওয়ার প্রবণতাকে তিনি একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছেন। তার বিশ্লেষণে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে মূল্যবোধের জায়গায় ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

মেধাস্বত্ব সুরক্ষার প্রসঙ্গেও তিনি কিছু সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশ এখনো কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে অনেক উদ্ভাবন ও সৃজনশীল কাজ দেশে স্বীকৃতি পায় না, বরং অন্য দেশে নিবন্ধিত হয়ে যাচ্ছে—এমন বাস্তবতার দিকেও তিনি ইঙ্গিত করেন। এ অবস্থায় উদ্ভাবকদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

কর্মশালায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের গতি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী মনে করেন, তরুণদের শুধু অনলাইন জনপ্রিয়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সৃজনশীল কাজে যুক্ত করতে হবে।

তিনি যোগ করেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আরও সক্রিয় হলে দেশের উদ্ভাবন আইনি সুরক্ষা পাবে এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও গতি আসতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইনস্ট্যান্ট ‘কফি’র সাথে তরুণদের তুলনা করলেন শিক্ষামন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

বর্তমান প্রজন্মের আচরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘ইনস্ট্যান্ট কফি’র উপমা টানলেন শিক্ষামন্ত্রী—যেখানে দ্রুত প্রতিক্রিয়া আছে, কিন্তু গভীর মনোযোগের ঘাটতি স্পষ্ট বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতায় তরুণদের গভীর চিন্তা ও বিশ্লেষণ কমে যাচ্ছে—এমন আশঙ্কাও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ।

রোববার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রসঙ্গ তোলেন।

দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ তরুণ—এই বাস্তবতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বড় অংশ যদি ধৈর্য হারায়, তাহলে তার প্রভাব ভবিষ্যতের ওপর পড়তেই পারে।

তরুণদের মানসিক প্রবণতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম অনেকটাই ‘ইনস্ট্যান্ট কফি’র মতো আচরণ করছে—দ্রুত মন্তব্য, দ্রুত প্রতিক্রিয়া; কিন্তু বিষয়কে সময় নিয়ে বোঝার আগ্রহ কম। তিনি উল্লেখ করে বলেন, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রকে দুর্বল করে দিতে পারে।

একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অভ্যস্ত একটি প্রজন্ম নিয়ে জ্ঞানভিত্তিক অগ্রগতি কতটা সম্ভব।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে তিনি কিছুটা উদ্বেগও প্রকাশ করেন। তরুণদের একটি অংশের কাছে ‘ভাইরাল’ হওয়াই যেন লক্ষ্য হয়ে উঠছে—এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে তিনি যোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে শালীনতার সীমা ভেঙে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পোশাক পরে অযাচিত মন্তব্য কিংবা লাইভে অসংলগ্ন বক্তব্য দেওয়ার প্রবণতাকে তিনি একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছেন। তার বিশ্লেষণে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে মূল্যবোধের জায়গায় ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

মেধাস্বত্ব সুরক্ষার প্রসঙ্গেও তিনি কিছু সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশ এখনো কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে অনেক উদ্ভাবন ও সৃজনশীল কাজ দেশে স্বীকৃতি পায় না, বরং অন্য দেশে নিবন্ধিত হয়ে যাচ্ছে—এমন বাস্তবতার দিকেও তিনি ইঙ্গিত করেন। এ অবস্থায় উদ্ভাবকদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

কর্মশালায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের গতি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী মনে করেন, তরুণদের শুধু অনলাইন জনপ্রিয়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সৃজনশীল কাজে যুক্ত করতে হবে।

তিনি যোগ করেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আরও সক্রিয় হলে দেশের উদ্ভাবন আইনি সুরক্ষা পাবে এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও গতি আসতে পারে।