উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
- / 5
দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের দমবন্ধ পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হতে শুরু করেছে। তবে এর সঙ্গে আসছে আরেক বাস্তবতা। সোমবার (২৭ এপ্রিল) থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহজুড়ে টানা ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে—এমনটাই জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস উল্লেখ করে বলেছে, ২০ এপ্রিল থেকে চলা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ ইতোমধ্যে দুর্বল হতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছিল—যা পরিস্থিতির তীব্রতাই ইঙ্গিত করে।
সিনিয়র আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে বজ্রমেঘের সক্রিয়তা বাড়তে পারে। তিনি উল্লেখ করে বলেন, ধীরে ধীরে এই প্রবণতা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগেও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি যুক্ত করে বলেন, এই সময়ে ভারি বৃষ্টির পাশাপাশি কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের ঘটনাও বাড়তে পারে। পরিস্থিতির এই দ্রুত পরিবর্তন তিনি বিশ্লেষণ করে বলেন, স্বল্প সময়ে বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, মেঘালয় ও সংলগ্ন ভারতের উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢল নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্র উল্লেখ করে বলে, এতে সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, মনু, খোয়াই ও কংস নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে , সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় আকস্মিক বন্যার উচ্চঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
কেন্দ্রের প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, উজানের পানির চাপ বাড়লে হাওরাঞ্চলে দ্রুত পানি প্রবেশ করতে পারে। তিনি যুক্ত করে বলেন, এতে নিম্নাঞ্চলগুলো হঠাৎ করেই প্লাবিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড হাওর এলাকার কৃষকদের আগাম ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছে। তারা উল্লেখ করে বলছে, সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারলে সম্ভাব্য ক্ষতি কিছুটা হলেও কমানো যেতে পারে।





































