সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় কুইক রেসপন্স সাপোর্ট টিম
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
- / 16
বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদারে কুইক রেসপন্স সাপোর্ট টিম গঠন করা হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদারে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সাপোর্ট (আইএমএস) এর সহায়তায় “সাপোর্টিং মিডিয়া ডিউরিং ট্রানজিশন পিরিয়ড ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মশালার আয়োজন করেছে বেসরকারি অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান ‘ভয়েস’ ।
‘কুইক রেসপন্স সাপোর্ট’ (কিউআরএস) দল অংশীজনের সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। সেসংগে গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
উদ্যোগটির সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করে ভয়েসের উপপরিচালক মুশাররাত মাহেরা কিউআরএস সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং কিউআরএস সদস্য সোহরাব হাসান, বাংলাদেশে আইএমএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাখাওয়াত হোসেন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আজিজুল পারভেজ, অধিকারকর্মী শারাবান তহুরা, উন্নয়ন পরামর্শক মনজুর রশীদ, জেন্ডার ও মিডিয়া বিশেষজ্ঞ আফরোজা সোমা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দীপ্তি চৌধুরী প্রমুখ।
বাংলাদেশের বর্তমান জটিল বক্তারা বলেন, সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে ধারাবাহিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় হয়রানি, ভয়ভীতি, সেন্সরশিপ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলার পাশাপাশি শারীরিক হামলার সম্মুখীন হচ্ছেন। যেখানে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা, জবাবদিহিতা বা ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার প্রায়ই অনুপস্থিত।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সোহরাব হাসান বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে সত্য বলার অধিকারকে সুরক্ষা দেওয়া। নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া স্বাধীন, শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম বিকশিত হতে পারে না। একই সঙ্গে, প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে চিহ্নিত সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাগুলো যথাযথ ও পদ্ধতিগতভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। এই যাচাই প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে কিউআরএস সদস্যরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবেন।”
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ শক্তিশালী করতে চাই এবং তাদের সামগ্রিক সুরক্ষার জন্য একটি সম্মিলিত প্রয়াস গড়ে তুলতে চাই। একই সঙ্গে, সাংবাদিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জার্নালিস্টস সেফটি ফান্ড (BJSF) পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকির মুখে পড়া সাংবাদিকদের সহায়তা প্রদানের জন্য কাজ করবে।
মুশাররাত মাহেরা বলেন, “এই প্রকল্পের আওতায়, গত তিন মাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ত্রিশটিরও বেশি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। আমরা এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা উৎসাহিত হবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।”
সভায় অংশগ্রহণকারীরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ঝুঁকি, নারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, এবং গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও তাদের আইনবহির্ভূত আটক করার প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তারা গণমাধ্যমের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সক্রিয় ও সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

































