ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমি দখল ইস্যুতে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবির সঙ্গে মিলছে না নথি

উৎপল দাস, বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 826

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবির সঙ্গে মিলছে না নথি

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের জমির একটি অংশ আওয়ামী লীগ দখল করে রেখেছিল; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এমন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মন্ত্রীর বক্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ দাবি করেছে, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমির ইতিহাস ও সরকারি নথির সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের মিল নেই।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য থাকাকালে ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। তখন প্রায় আড়াই একর জমি সরকারের হাতে এবং বাকি সম্পত্তি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল বলে দাবি করেন তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, ওই আড়াই একর জমি শ্মশান হওয়ায় সেটিও দখল করা সম্ভব হয়নি।

তবে মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ‘সত্যের অপলাপ’ বলে দাবি করা হয়েছে একটি পাল্টা পাওয়া গেছে। এতে বলা হয়েছে, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমিতে কোনো শ্মশান ছিল না, এখনও নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিএস খতিয়ানের বরাত দিয়ে দাবি করা হয় শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মোট জমির পরিমাণ ছিল ২০ বিঘা বা আনুমানিক ৬ দশমিক ৬ একর। এর মধ্যে ১৯৫৩ সালে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ‘মোমিন মটরস’-এর জন্য ২ দশমিক ৫৬ একর জমি হুকুম দখল করে নেয়।

১৯৮২ সালে তৎকালীন সরকার ওই ২ দশমিক ৫৬ একর জমির মধ্যে ১ দশমিক ৭৫ একর অবমুক্ত করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) হস্তান্তর করে। তবে অবশিষ্ট জমি ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে ফেরত দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ওই অংশ মোমিন মটরসের দখলে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

মন্দির সংশ্লিষ্ট পক্ষটি আরো বলেন, পাকিস্তান আমলে হুকুম দখলের মাধ্যমে মন্দিরের জমি নেওয়া হয়েছিল। ফলে ওই জমি আওয়ামী লীগ দখল করেছিল; এমন দাবি ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় ।

এদিকে, ২০১৮ সালের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করছেন অনেকে। এতে দাবি করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিঘা জমি ‘আজম গং’-এর কবল থেকে উদ্ধার করে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ওই জমির জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আনুমানিক ১০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

এমনকি, উদ্ধার করে ফেরত দেওয়া ১ দশমিক ৫ বিঘা জমিসহ বর্তমানে মন্দিরের দখলে রয়েছে প্রায় ৮ বিঘা জমি। বাকি ১২ বিঘা জমি মোমিন মটরস, বুয়েট, নাভানা, ঘোষ ও অ্যাডভোকেট মহসিনের দখলে রয়েছে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে জমিকে আওয়ামী লীগের দখলে থাকার কথা বলেছেন, সেটির দখল ও মালিকানার ইতিহাস আসলে কী? ১৯৫৩ সালের হুকুম দখল, ১৯৮২ সালের জমি হস্তান্তর এবং ২০১৮ সালে জমি উদ্ধারের ঘটনাগুলো সরকারি নথি দিয়ে যাচাই করলে মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে কতটা মিল পাওয়া যায়নি।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসত্য’ দাবি করে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হিন্দু কয়েকজন নেতা।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমি দখল ইস্যুতে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবির সঙ্গে মিলছে না নথি

সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের জমির একটি অংশ আওয়ামী লীগ দখল করে রেখেছিল; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এমন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মন্ত্রীর বক্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ দাবি করেছে, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমির ইতিহাস ও সরকারি নথির সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের মিল নেই।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য থাকাকালে ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। তখন প্রায় আড়াই একর জমি সরকারের হাতে এবং বাকি সম্পত্তি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল বলে দাবি করেন তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, ওই আড়াই একর জমি শ্মশান হওয়ায় সেটিও দখল করা সম্ভব হয়নি।

তবে মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ‘সত্যের অপলাপ’ বলে দাবি করা হয়েছে একটি পাল্টা পাওয়া গেছে। এতে বলা হয়েছে, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমিতে কোনো শ্মশান ছিল না, এখনও নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিএস খতিয়ানের বরাত দিয়ে দাবি করা হয় শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মোট জমির পরিমাণ ছিল ২০ বিঘা বা আনুমানিক ৬ দশমিক ৬ একর। এর মধ্যে ১৯৫৩ সালে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ‘মোমিন মটরস’-এর জন্য ২ দশমিক ৫৬ একর জমি হুকুম দখল করে নেয়।

১৯৮২ সালে তৎকালীন সরকার ওই ২ দশমিক ৫৬ একর জমির মধ্যে ১ দশমিক ৭৫ একর অবমুক্ত করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) হস্তান্তর করে। তবে অবশিষ্ট জমি ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে ফেরত দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ওই অংশ মোমিন মটরসের দখলে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

মন্দির সংশ্লিষ্ট পক্ষটি আরো বলেন, পাকিস্তান আমলে হুকুম দখলের মাধ্যমে মন্দিরের জমি নেওয়া হয়েছিল। ফলে ওই জমি আওয়ামী লীগ দখল করেছিল; এমন দাবি ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় ।

এদিকে, ২০১৮ সালের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করছেন অনেকে। এতে দাবি করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিঘা জমি ‘আজম গং’-এর কবল থেকে উদ্ধার করে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ওই জমির জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আনুমানিক ১০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

এমনকি, উদ্ধার করে ফেরত দেওয়া ১ দশমিক ৫ বিঘা জমিসহ বর্তমানে মন্দিরের দখলে রয়েছে প্রায় ৮ বিঘা জমি। বাকি ১২ বিঘা জমি মোমিন মটরস, বুয়েট, নাভানা, ঘোষ ও অ্যাডভোকেট মহসিনের দখলে রয়েছে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে জমিকে আওয়ামী লীগের দখলে থাকার কথা বলেছেন, সেটির দখল ও মালিকানার ইতিহাস আসলে কী? ১৯৫৩ সালের হুকুম দখল, ১৯৮২ সালের জমি হস্তান্তর এবং ২০১৮ সালে জমি উদ্ধারের ঘটনাগুলো সরকারি নথি দিয়ে যাচাই করলে মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে কতটা মিল পাওয়া যায়নি।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসত্য’ দাবি করে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হিন্দু কয়েকজন নেতা।