ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের অনুমতি না দেওয়ার দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৭:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 63
বিশ্ব ইজতেমা-২০২৭ সামনে রেখে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা। একই সঙ্গে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত ঘটনায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আয়োজিত এক পরামর্শ সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে ইজতেমা মাঠের টিনশেডের শবগুজারি পয়েন্টে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের ৬৪ জেলা থেকে আসা আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মহল থেকে আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে এবারের ইজতেমার জন্য সাদপন্থীদের তিন দিন মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হয়। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় অংশ নেওয়া আলেমদের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের কাছে দুটি দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। প্রথমত, ২০২৫ সালের পর সাদপন্থীদের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ঘটনায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে।
আয়োজকদের দাবি, মামলা দুটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ছাড়া সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনের বিষয়টি সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলার মাদ্রাসা, মারকাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দোয়ার আয়োজনের জন্য আলেম-ওলামা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, এ বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে বা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর নিজ নিজ জেলায় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হকসহ দেশের বিভিন্ন জেলার আলেম ও ধর্মীয় নেতারা।
উল্লেখ্য, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত। পরামর্শ সভায় উত্থাপিত দাবিগুলো আলেমদের অবস্থান; এগুলো সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত নয়।





























