ঢাকা ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিবেদন ২৯ সেপ্টেম্বর

সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগ

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 97

সালমান শাহ

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কবর থেকে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে তার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম।

মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক লুছি ওরফে লুসি, চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগ

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নতুন করে নির্ণয়ের অংশ হিসেবে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২০ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এরপর ২৪ মে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বাদীপক্ষ ওই আদেশ বাতিলের আবেদন করলে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন।

পরে গত ২২ জুন সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। এ বিষয়ে সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা একটি অফিস আদেশ জারি করেন।

ওই আদেশের অনুলিপি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তা নথিভুক্ত করা হয়। এখন দেহাবশেষ উত্তোলনের পর সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

১৯৯৬ সালে মৃত্যু, কাটেনি রহস্য

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। তার মৃত্যুর ঘটনায় ওই সময় অপমৃত্যুর মামলা করেন বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

পরের বছর ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। আদালত অপমৃত্যুর মামলা ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।

তবে সিআইডির প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হয়ে সালমান শাহর বাবা রিভিশন মামলা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।

১১ আসামি

মামলার আসামিদের মধ্যে সামীরা হক ছাড়াও রয়েছেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর পরিবারের সদস্যরা গিয়ে তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পান। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। পরে বাসায় ফিরে পরিবারের সদস্যরা তাকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সালমান শাহর গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখা যায়। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, সালমান শাহর বাবা মৃত্যুর আগে থেকেই ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ প্রকাশ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর মামাটি পরিচালনা করছেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর।

এদিকে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে। দেহাবশেষ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের পর পাওয়া তথ্য তদন্তে কী প্রভাব ফেলে, সেটিও এখন মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রতিবেদন ২৯ সেপ্টেম্বর

সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগ

সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কবর থেকে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে তার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম।

মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক লুছি ওরফে লুসি, চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগ

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নতুন করে নির্ণয়ের অংশ হিসেবে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২০ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এরপর ২৪ মে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বাদীপক্ষ ওই আদেশ বাতিলের আবেদন করলে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন।

পরে গত ২২ জুন সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। এ বিষয়ে সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা একটি অফিস আদেশ জারি করেন।

ওই আদেশের অনুলিপি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তা নথিভুক্ত করা হয়। এখন দেহাবশেষ উত্তোলনের পর সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

১৯৯৬ সালে মৃত্যু, কাটেনি রহস্য

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। তার মৃত্যুর ঘটনায় ওই সময় অপমৃত্যুর মামলা করেন বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

পরের বছর ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। আদালত অপমৃত্যুর মামলা ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।

তবে সিআইডির প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হয়ে সালমান শাহর বাবা রিভিশন মামলা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।

১১ আসামি

মামলার আসামিদের মধ্যে সামীরা হক ছাড়াও রয়েছেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর পরিবারের সদস্যরা গিয়ে তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পান। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। পরে বাসায় ফিরে পরিবারের সদস্যরা তাকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সালমান শাহর গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখা যায়। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, সালমান শাহর বাবা মৃত্যুর আগে থেকেই ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ প্রকাশ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর মামাটি পরিচালনা করছেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর।

এদিকে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে। দেহাবশেষ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের পর পাওয়া তথ্য তদন্তে কী প্রভাব ফেলে, সেটিও এখন মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।