ঢাকা ০৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপাল থেকে ফিরে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন অপু

বিনোদন প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:২৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 29

নেপাল থেকে ফিরে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন অপু

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় পুলিশের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। এ ছাড়া নেপাল-তিব্বত সীমান্তে অন্তত ৩২০ ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে আহত অবস্থায় ১ হাজার ৫৪৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই বড় ধরনের বিপদ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন ঢালিউডের চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও ‘শিকার’ সিনেমার পুরো শুটিং ইউনিট। নেপালের পোখারায় সিনেমাটির শুটিং চলছিল। ২৬ আগস্ট যে পাহাড়ি সড়ক দিয়ে তাঁদের কাঠমান্ডু যাওয়ার কথা ছিল, সেখানেই পরদিন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। তবে তাঁদের যাত্রার তারিখ এক দিন পিছিয়ে ২৭ আগস্ট হওয়ায় বড় দুর্ঘটনা এড়াতে সক্ষম হন তারা।

দুর্যোগের খবর পাওয়ার পরই শুটিং বন্ধ করে দেয় ‘শিকার’ সিনেমার টিম। মানুষের এমন দুর্ভোগের মধ্যে ক্যামেরা চালিয়ে যাওয়া অমানবিক হবে মনে করে দলের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন অপু। পরে নিরাপদে দেশে ফেরে পুরো ইউনিট।

শুক্রবার রাতে ঢাকায় ফিরে নেপালের অভিজ্ঞতা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন অপু বিশ্বাস। তিনি জানান, ভয়াবহ সেই ঘটনা মনে পড়লেই এখনো শিউরে উঠছেন। একই সঙ্গে দুর্যোগে স্বজন হারানো মানুষের আহাজারি তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

অপু বলেন, নেপালে কাঠমান্ডু থেকে দুই থেকে তিন ঘণ্টার দূরত্বের একটি পাহাড়ি এলাকায় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে। কাকতালীয়ভাবে তাঁদেরও ২৭ আগস্ট একই পথ দিয়ে কাঠমান্ডু যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এক দিনের ব্যবধানে যাত্রার সময় হওয়ায় বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে তাঁরা রক্ষা পান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যে রাস্তা দিয়ে কাঠমান্ডু ঢোকার কথা ছিল, ঠিক তার কাছাকাছি সময়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। আল্লাহর অশেষ রহমত যে ২৬ তারিখ নয়, ২৭ তারিখ বাস নিয়ে আমাদের যাওয়ার কথা ছিল।’

নেপাল থেকে ফিরে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন অপু
নেপাল থেকে ফিরে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন অপু বিশ্বাস

নেপালের দুর্যোগে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক আটকা পড়েছেন বলেও জানান এই অভিনেত্রী। তাঁদের অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন তিনি। বিষয়টি তাঁকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

অপু বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি, বাংলাদেশসহ ২৭ দেশের পর্যটক সেখানে ছিলেন। এটা দুঃখের। তাঁরা হয়তো আমাদের আপনজন নন, কিন্তু আপন ছিলেন। যাঁদের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁদের পরিবারের অবস্থা কী; জানি না।’

দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিন বন্ধ থাকতে পারে বলেও জানান অপু। এ কারণে সিনেমাটির শুটিং শেষ না করেই দেশে ফিরতে হয়েছে পুরো ইউনিটকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিচালক ও প্রযোজকেরা নতুন করে শুটিংয়ের সময়সূচি নির্ধারণ করবেন।

শুটিং বন্ধের পেছনে শুধু নিরাপত্তার বিষয়টি নয়, মানবিক কারণও ছিল বলে জানান অপু। তাঁর মতে, মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে এমন পরিস্থিতিতে গানের দৃশ্য ধারণ করা ঠিক হতো না।

তিনি বলেন, ‘এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে গানের শুটিং করা অত্যন্ত অমানবিক দেখায়। তাই আমি পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই এবং সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসি।’

নেপালে দেখা ভয়াবহ পরিস্থিতি ও মানুষের আহাজারি এখনো তাঁর মনে গেঁথে আছে উল্লেখ করে অপু বলেন, ‘নেপালে মানুষের যে আহাজারি দেখেছি, তা বলে বোঝাতে পারব না।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নেপাল থেকে ফিরে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন অপু

সর্বশেষ আপডেট ০২:২৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় পুলিশের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। এ ছাড়া নেপাল-তিব্বত সীমান্তে অন্তত ৩২০ ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে আহত অবস্থায় ১ হাজার ৫৪৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই বড় ধরনের বিপদ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন ঢালিউডের চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও ‘শিকার’ সিনেমার পুরো শুটিং ইউনিট। নেপালের পোখারায় সিনেমাটির শুটিং চলছিল। ২৬ আগস্ট যে পাহাড়ি সড়ক দিয়ে তাঁদের কাঠমান্ডু যাওয়ার কথা ছিল, সেখানেই পরদিন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। তবে তাঁদের যাত্রার তারিখ এক দিন পিছিয়ে ২৭ আগস্ট হওয়ায় বড় দুর্ঘটনা এড়াতে সক্ষম হন তারা।

দুর্যোগের খবর পাওয়ার পরই শুটিং বন্ধ করে দেয় ‘শিকার’ সিনেমার টিম। মানুষের এমন দুর্ভোগের মধ্যে ক্যামেরা চালিয়ে যাওয়া অমানবিক হবে মনে করে দলের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন অপু। পরে নিরাপদে দেশে ফেরে পুরো ইউনিট।

শুক্রবার রাতে ঢাকায় ফিরে নেপালের অভিজ্ঞতা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন অপু বিশ্বাস। তিনি জানান, ভয়াবহ সেই ঘটনা মনে পড়লেই এখনো শিউরে উঠছেন। একই সঙ্গে দুর্যোগে স্বজন হারানো মানুষের আহাজারি তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

অপু বলেন, নেপালে কাঠমান্ডু থেকে দুই থেকে তিন ঘণ্টার দূরত্বের একটি পাহাড়ি এলাকায় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে। কাকতালীয়ভাবে তাঁদেরও ২৭ আগস্ট একই পথ দিয়ে কাঠমান্ডু যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এক দিনের ব্যবধানে যাত্রার সময় হওয়ায় বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে তাঁরা রক্ষা পান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যে রাস্তা দিয়ে কাঠমান্ডু ঢোকার কথা ছিল, ঠিক তার কাছাকাছি সময়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। আল্লাহর অশেষ রহমত যে ২৬ তারিখ নয়, ২৭ তারিখ বাস নিয়ে আমাদের যাওয়ার কথা ছিল।’

নেপাল থেকে ফিরে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন অপু
নেপাল থেকে ফিরে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন অপু বিশ্বাস

নেপালের দুর্যোগে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক আটকা পড়েছেন বলেও জানান এই অভিনেত্রী। তাঁদের অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন তিনি। বিষয়টি তাঁকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

অপু বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি, বাংলাদেশসহ ২৭ দেশের পর্যটক সেখানে ছিলেন। এটা দুঃখের। তাঁরা হয়তো আমাদের আপনজন নন, কিন্তু আপন ছিলেন। যাঁদের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁদের পরিবারের অবস্থা কী; জানি না।’

দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিন বন্ধ থাকতে পারে বলেও জানান অপু। এ কারণে সিনেমাটির শুটিং শেষ না করেই দেশে ফিরতে হয়েছে পুরো ইউনিটকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিচালক ও প্রযোজকেরা নতুন করে শুটিংয়ের সময়সূচি নির্ধারণ করবেন।

শুটিং বন্ধের পেছনে শুধু নিরাপত্তার বিষয়টি নয়, মানবিক কারণও ছিল বলে জানান অপু। তাঁর মতে, মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে এমন পরিস্থিতিতে গানের দৃশ্য ধারণ করা ঠিক হতো না।

তিনি বলেন, ‘এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে গানের শুটিং করা অত্যন্ত অমানবিক দেখায়। তাই আমি পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই এবং সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসি।’

নেপালে দেখা ভয়াবহ পরিস্থিতি ও মানুষের আহাজারি এখনো তাঁর মনে গেঁথে আছে উল্লেখ করে অপু বলেন, ‘নেপালে মানুষের যে আহাজারি দেখেছি, তা বলে বোঝাতে পারব না।’