ঢাকায় জশনে জুলুসে ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল
- সর্বশেষ আপডেট ০১:১১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 54
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস। বুধবার সকালে আয়োজিত এ শোভাযাত্রায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন। সাদা পোশাক ও টুপিতে সজ্জিত মানুষের উপস্থিতি, কালেমাখচিত পতাকা, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকায় মুখর হয়ে ওঠে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক।
আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ জশনে জুলুসের আয়োজন করা হয়। সংগঠনটির সভাপতি শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারীর নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি বের হয়।
ভোর হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুফিবাদী অনুসারীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পশ্চিম গেট থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন ও সচিবালয় সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উদ্যানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রার সামনে থাকা বড় ব্যানারে ‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা’ ও ‘ইয়া রাসূল সালামু আলাইকা’ লেখা ছিল।
অংশগ্রহণকারীদের হাতে দেখা যায় কালেমাখচিত পতাকা, বিভিন্ন বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন। অনেকে জাতীয় পতাকাও বহন করেন। বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারীর পরনে ছিল সাদা টি-শার্ট এবং মাথায় সাদা টুপি। শোভাযাত্রাজুড়ে ‘নারায়ে তাকবীর’, ‘নারায়ে রিসালাত’সহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগানে মুখর ছিল পুরো এলাকা।
জুলুস শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশ। এতে প্রধান বক্তার বক্তব্যে শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই সমাজে ন্যায়, মানবিকতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.) মানুষকে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত ও অস্থিরতার সময়ে তাঁর আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।
ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহানবীর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ মেহেবুবে মইনুদ্দীন, মইনীয়া যুব ফোরামের সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক মইনুদ্দীন, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এমিরেটস ড. আনিসুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আখতারুজ্জামানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে নারী অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তায় আয়োজিত এ কর্মসূচির শেষপর্বে দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মোনাজাত পরিচালনা করেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের বর্তমান ইমাম শাহ সুফি ড. শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী।





























