সৈয়দপুরে সাংবাদিক-ব্যবসায়ীদের রাতের ফুটবল
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 51
দিনভর নানা কাজে ব্যস্ত থাকার পর রাত নামলেই সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠে জড়ো হন সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ফুটবল খেলায় মেতে ওঠেন তারা। শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় করতেই তাদের এই নিয়মিত আয়োজন।
মাত্র আটজনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল রাতের এই ফুটবল খেলা। সময়ের সঙ্গে খেলোয়াড়ের সংখ্যা বেড়ে এখন প্রায় ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই নিয়ম করে চলে এই আয়োজন।
এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা সময় টেলিভিশনের চিত্র সাংবাদিক মো. সোহেল, এখন টেলিভিশনের চিত্র সাংবাদিক আশিকুর রহমান আশিক, কাইয়ুম খান ডলফিন ও সাংবাদিক মো. জাকির হোসেন। তাদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘নাইট ফুটবল ক্লাব’ এখন শুধু খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে এটি পরিণত হয়েছে সুস্থ বিনোদন ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি মিলনস্থলে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় সন্ধ্যার পর সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠের বিভিন্ন স্থানে মাদকের আড্ডা বসত। তবে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন শুরু হওয়ার পর মাঠের পরিবেশ অনেকটাই বদলে গেছে। এখন রাত হলেই তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে সরব হয়ে ওঠে মাঠ। খেলাধুলার কারণে আগের মতো মাদকসেবীদের আনাগোনাও দেখা যায় না।
সিনিয়র সাংবাদিক জাকির হোসেন বলেন, আগে তারা নিয়মিত খেলাধুলা করতেন। দীর্ঘদিন খেলাধুলা না করায় শরীরের ফিটনেস কমে গেছে। কর্মজীবনে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই শরীর সুস্থ ও ফিট রাখতে আবারও মাঠে ফিরেছেন তারা।
এখন টেলিভিশনের সিনিয়র সাংবাদিক আমিরুল বাপ্পী বলেন, সারাদিন নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। আগের মতো ব্যায়াম বা জিম করার সুযোগ হয় না। তাই শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত ফুটবল খেলায় অংশ নিচ্ছেন।
উদ্যোক্তা মো. সোহেল বলেন, কর্মব্যস্ততার মধ্যেও নিজেদের সুস্থ রাখার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা মাঠে খেলা শুরু করার পর অন্যরাও এতে আগ্রহী হয়েছেন। এমনকি আশপাশের বিভিন্ন জায়গাতেও রাতে ফুটবল খেলার আয়োজন শুরু হয়েছে।
চিত্র সাংবাদিক আশিকুর রহমান আশিক বলেন, আগে মাঠে মাদকসেবী ও নেশাগ্রস্তদের আনাগোনা ছিল। সে পরিস্থিতি বদলাতেই তারা খেলাধুলার উদ্যোগ নেন। এখন মাঠে তেমন নেশাগ্রস্তদের দেখা যায় না। এতে একদিকে খেলোয়াড়দের শরীর ফিট থাকছে, অন্যদিকে মাদকের প্রভাবও কমছে।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি গোলবার ও একটি ফুটবল উপহার দেওয়া হয়েছে।
খেলোয়াড়রা জানান, সারাদিন নিজ নিজ পেশাগত কাজে ব্যস্ত থাকার পর রাতে এক ঘণ্টা সবাই একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ পান। ফুটবল খেলার মাধ্যমে শরীরচর্চার পাশাপাশি কর্মজীবনের মানসিক চাপও কিছুটা কমে। তাদের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও মানুষকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করবে বলে আশা করছেন তারা।
































