ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৬ এমপি ভোট দেননি

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 201

যে কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৬ এমপি ভোট দেননি

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ছয় সংসদ সদস্য। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় শেষ হয়। অধিকাংশ সংসদ সদস্য ভোট দিলেও ছয়জন ভোটকেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিলেন।

ভোট না দেওয়া ছয় এমপি হলেন; বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক, চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত গাজী নজরুল ইসলাম।

সংসদ সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকায় ভোট দিতে পারেননি। বিএনপির সংসদ সদস্য ড. ওসমান ফারুকও ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হননি।

খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামও ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ভোট না দেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ‘অর্থহীন’ ও ‘প্রহসনের ভোট’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তাই এমন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি তিনি।

রুমিন ফারহানার ভাষ্য, নির্বাচনে ফলাফল নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটিকে প্রকৃত নির্বাচন বলা যায় না। তার মতে, ফল আগে থেকেই জানা থাকলে সেটি নির্বাচন নয়, বরং মনোনয়ন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ভোট দেন। ফলে ভোটদানে বিরত থাকা এমপির সংখ্যা ছয়জনে দাঁড়ায়।

বিএনপির সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর সদস্যপদ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন।

ভোট গণনা শেষে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যে কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৬ এমপি ভোট দেননি

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ছয় সংসদ সদস্য। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় শেষ হয়। অধিকাংশ সংসদ সদস্য ভোট দিলেও ছয়জন ভোটকেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিলেন।

ভোট না দেওয়া ছয় এমপি হলেন; বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক, চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত গাজী নজরুল ইসলাম।

সংসদ সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকায় ভোট দিতে পারেননি। বিএনপির সংসদ সদস্য ড. ওসমান ফারুকও ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হননি।

খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামও ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ভোট না দেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ‘অর্থহীন’ ও ‘প্রহসনের ভোট’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তাই এমন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি তিনি।

রুমিন ফারহানার ভাষ্য, নির্বাচনে ফলাফল নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটিকে প্রকৃত নির্বাচন বলা যায় না। তার মতে, ফল আগে থেকেই জানা থাকলে সেটি নির্বাচন নয়, বরং মনোনয়ন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ভোট দেন। ফলে ভোটদানে বিরত থাকা এমপির সংখ্যা ছয়জনে দাঁড়ায়।

বিএনপির সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর সদস্যপদ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন।

ভোট গণনা শেষে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।