ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকদের রাজনীতিতে ‘না’ বললেন শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • / 16

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধে আইনি বিধান বা ‘রেগুলেশন’ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর মতে, শিক্ষকতা ও সক্রিয় রাজনীতি একসঙ্গে চললে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই) সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) ও মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান বা অন্যান্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে দীর্ঘ সময় তারা শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকেন এবং শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

তিনি বলেন, “শিক্ষকরা শিক্ষকতার পেশায় থাকবেন, আর নির্বাচনে গেলে তারা রাজনীতির পেশায় যাবেন। দুটি বিষয় একসঙ্গে চললে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই নির্বাচন কমিশনের এমন একটি রেগুলেশন থাকা উচিত, যাতে শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন। কেউ নির্বাচন করতে চাইলে আগে শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে দেবেন।”

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নে রাষ্ট্রের বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সেই বিনিয়োগ যেন শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে কাজে লাগে, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আজ থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার সারা দেশের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “শিক্ষক, অভিভাবক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবাই সচেতন। পুলিশ বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছে। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীরা কোনো অসদুপায় অবলম্বন করবে না এবং পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।”

এইচএসসি পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. মিলন বলেন, অতীতে এসএসসি বা এইচএসসির পর অনেক শিক্ষার্থী বিয়ে, চাকরি বা অন্য কারণে লেখাপড়া ছেড়ে দিত। এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি জানান, আগামী দিনে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা আরও শক্তিশালী করা, শিক্ষকসংখ্যা বৃদ্ধি এবং পাঠ্যক্রম আরও কার্যকরভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষকের নিয়োগসংক্রান্ত মামলার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ এখনো মন্ত্রণালয়ের হাতে পৌঁছায়নি। আদেশ পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশনের (জিপিই) সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) ও মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট মিলিয়ে মোট ৯৮ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সচিব, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, এডিবি, ব্রিটিশ হাইকমিশনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শিক্ষকদের রাজনীতিতে ‘না’ বললেন শিক্ষামন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধে আইনি বিধান বা ‘রেগুলেশন’ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর মতে, শিক্ষকতা ও সক্রিয় রাজনীতি একসঙ্গে চললে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই) সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) ও মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান বা অন্যান্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে দীর্ঘ সময় তারা শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকেন এবং শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

তিনি বলেন, “শিক্ষকরা শিক্ষকতার পেশায় থাকবেন, আর নির্বাচনে গেলে তারা রাজনীতির পেশায় যাবেন। দুটি বিষয় একসঙ্গে চললে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই নির্বাচন কমিশনের এমন একটি রেগুলেশন থাকা উচিত, যাতে শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন। কেউ নির্বাচন করতে চাইলে আগে শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে দেবেন।”

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নে রাষ্ট্রের বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সেই বিনিয়োগ যেন শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে কাজে লাগে, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আজ থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার সারা দেশের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “শিক্ষক, অভিভাবক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবাই সচেতন। পুলিশ বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছে। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীরা কোনো অসদুপায় অবলম্বন করবে না এবং পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।”

এইচএসসি পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. মিলন বলেন, অতীতে এসএসসি বা এইচএসসির পর অনেক শিক্ষার্থী বিয়ে, চাকরি বা অন্য কারণে লেখাপড়া ছেড়ে দিত। এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি জানান, আগামী দিনে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা আরও শক্তিশালী করা, শিক্ষকসংখ্যা বৃদ্ধি এবং পাঠ্যক্রম আরও কার্যকরভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষকের নিয়োগসংক্রান্ত মামলার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ এখনো মন্ত্রণালয়ের হাতে পৌঁছায়নি। আদেশ পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশনের (জিপিই) সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) ও মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট মিলিয়ে মোট ৯৮ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সচিব, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, এডিবি, ব্রিটিশ হাইকমিশনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।