ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফোনালাপে ইনুকে শেখ হাসিনা

সেনা পাঠানো হচ্ছে, হেলিকপ্টার দিয়ে সোজা বোম্বিং করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • / 14

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ার হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে উসকানির অভিযোগও রয়েছে।

মামলার বিচার চলাকালে উপস্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ আলামতের মধ্যে ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও হাসানুল হক ইনুর একাধিক ফোনালাপ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব অডিও প্রকাশ্যে আসে এবং পরে ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ তা প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে।

একটি ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, “সেনা পাঠানো হচ্ছে… হেলিকপ্টার দিয়ে সোজা বোম্বিং করা হবে… র‍্যাবের হেলিকপ্টার ওপর দিয়ে মারবে।”

জবাবে ইনু বলেন, “ওপর দিয়ে সাউন্ড বোম যাবে… কারফিউ শেষে যেন আর মিছিল না নামতে পারে, সেজন্য নেতৃত্বদানকারীদের তালিকা করে আজ রাতেই ধরে ফেলতে হবে।”

ফোনালাপে ইনু দাবি করেন, কুষ্টিয়ায় আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং স্থানীয় পুলিশ সুপারকে তাদের আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের তালিকা ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকাতেও তৈরির পরামর্শ দেন তিনি।

এ সময় শেখ হাসিনা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ত করে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করার কথা বলেন। ইনুও উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান, যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার নেতৃত্বদানকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

কথোপকথনে আন্দোলনকে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা হিসেবে প্রচারের কৌশল, ইন্টারনেট চালু করে প্রচার জোরদার করা এবং জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব ফোনালাপ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ফোনালাপে ইনুকে শেখ হাসিনা

সেনা পাঠানো হচ্ছে, হেলিকপ্টার দিয়ে সোজা বোম্বিং করা হবে

সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ার হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে উসকানির অভিযোগও রয়েছে।

মামলার বিচার চলাকালে উপস্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ আলামতের মধ্যে ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও হাসানুল হক ইনুর একাধিক ফোনালাপ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব অডিও প্রকাশ্যে আসে এবং পরে ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ তা প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে।

একটি ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, “সেনা পাঠানো হচ্ছে… হেলিকপ্টার দিয়ে সোজা বোম্বিং করা হবে… র‍্যাবের হেলিকপ্টার ওপর দিয়ে মারবে।”

জবাবে ইনু বলেন, “ওপর দিয়ে সাউন্ড বোম যাবে… কারফিউ শেষে যেন আর মিছিল না নামতে পারে, সেজন্য নেতৃত্বদানকারীদের তালিকা করে আজ রাতেই ধরে ফেলতে হবে।”

ফোনালাপে ইনু দাবি করেন, কুষ্টিয়ায় আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং স্থানীয় পুলিশ সুপারকে তাদের আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের তালিকা ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকাতেও তৈরির পরামর্শ দেন তিনি।

এ সময় শেখ হাসিনা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ত করে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করার কথা বলেন। ইনুও উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান, যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার নেতৃত্বদানকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

কথোপকথনে আন্দোলনকে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা হিসেবে প্রচারের কৌশল, ইন্টারনেট চালু করে প্রচার জোরদার করা এবং জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব ফোনালাপ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।