ভারতের অরুণাচল প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা চীনা সেনাবাহিনীর দখলে
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / 23
ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলায় চীনা সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশ ও বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় ‘নহ্’ আদিবাসী সম্প্রদায়।
তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে গত কয়েক বছরে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত চারণভূমি, শিকার এলাকা এবং কৃষিজমির একটি বড় অংশ চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
স্থানীয় ‘নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ জানায়, ২০২০ সালের পর থেকে সীমান্তবর্তী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের চলাচল ও ঐতিহ্যগত জীবনযাত্রা ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়েছে। সংগঠনটির সভাপতি কেরু চাদের অভিযোগ, এক সময় যেসব বনভূমি ও চারণক্ষেত্রে স্থানীয়রা স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতেন, সেগুলো এখন আর আগের মতো ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, “আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের পূর্বপুরুষের ভূমি হারাচ্ছি।”
অভিযোগে বলা হয়েছে, আপার সুবানসিরির তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের অন্তত পাঁচটি কৌশলগত স্থানে চীনা বাহিনীর উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে সীমান্ত এলাকায় চীনা বাহিনীর কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আসাফিলা অঞ্চলের ওইং, চুজারতা অঞ্চলের পানিয়ার, মারনাফে অঞ্চলের মারপান, পোত্রাং লেক এবং তিনদিংতাং এলাকায় চীনা সেনাবাহিনীর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এসব এলাকা স্থানীয়দের কাছে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তের ভেতরে কিছু জায়গায় রাস্তা নির্মাণ এবং অস্থায়ী সামরিক স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখছেন। নাচোর বিধায়ক নাকাপ নালো বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে দ্রুত সরকারি তদন্ত ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রয়োজন।
অন্যদিকে আপার সুবানসিরি জেলা প্রশাসন কিংবা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে স্থানীয়দের এসব অভিযোগ উঠে এসেছে।



































