জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে সরকারকে সরে যাওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
- সর্বশেষ আপডেট ১১:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / 13
রাজধানীর বিজয়নগরে এক সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ অতীতের সহিংস ঘটনার বিচার নিশ্চিত না হলে সরকারের উচিত চলে যাওয়া ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর পানির ট্যাংকি এলাকার সামনে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশের বিষয় ছিল আওয়ামী লীগের কথিত ‘ফ্যাসিস্ট’ আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার দাবি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করুন, না হলে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করুন। অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আবারও বিপ্লব হবে।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের শাসনের পর জনগণ একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশা ক্রমে ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, যারা আগে হত্যা, গুম ও নির্যাতনের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা ক্ষমতায় এসে অবস্থান পরিবর্তন করেছে। তার ভাষায়, বিচার তো হচ্ছেই না, বরং সাম্প্রতিক সময়ে হত্যাকাণ্ডও বেড়েছে।
“নিজেদের কর্মীদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে ২০ কোটি মানুষের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা কতটুকু,”—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ চলছে। ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় প্রভাব বাড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এমনকি খেলার মাঠও এর বাইরে নেই বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির কথা বলে যদি আবার সেই একই পথে হাঁটা হয়, তবে জনগণ তা গ্রহণ করবে না। শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গাইবান্ধায় ছাত্রশিবিরের এক তরুণ নেতাকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“একজন মানুষকে হত্যা করে দুনিয়া থেকে সরানো যায়, কিন্তু কোনো আদর্শকে নির্মূল করা যায় না।”
তিনি আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ এ দেশের মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত, কোনো শক্তি তা মুছে ফেলতে পারবে না।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন,
“মজলুম ছিলেন, জালেম হবেন না। মেহেরবানী করে বিচারগুলো নিশ্চিত করুন।”
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, পুরাতন বা নতুন—কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদই তারা মেনে নেবেন না এবং প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ অনেকে।
































