ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধানমন্ডি-৩২ এ সাংবাদিকদের ওপর জামায়াতের হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • / 37

ধানমন্ডি-৩২ এ সাংবাদিকদের ওপর জামায়াতের হামলা। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির পর সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের ওপর। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোনের উদ্যোগে আয়োজিত আওয়ামী লীগবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

হামলায় দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশির গুরুতর আহত হন। এছাড়া কালবেলার সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান ইশান, যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদক রাব্বী সিদ্দিকীসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা অতর্কিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। এতে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন মারধরের শিকার হন। গুরুতর আহত মাহফুজুর রহমান শিশিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে আব্দুর রহমান ইশানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। তারা জানান, হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার অনুরোধ জানানো হলেও পুলিশ সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ ছাড়া ব্যবস্থা নিতে অপারগতার কথা বলেন।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিল-পরবর্তী ব্রিফিং চলাকালে কয়েকজন সাংবাদিককে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ও ‘ভারতীয় দালাল’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। এর প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে একদল ব্যক্তি সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন ও সহকর্মীরা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ধানমন্ডি-৩২ এ সাংবাদিকদের ওপর জামায়াতের হামলা

সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির পর সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের ওপর। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোনের উদ্যোগে আয়োজিত আওয়ামী লীগবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

হামলায় দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশির গুরুতর আহত হন। এছাড়া কালবেলার সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান ইশান, যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদক রাব্বী সিদ্দিকীসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা অতর্কিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। এতে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন মারধরের শিকার হন। গুরুতর আহত মাহফুজুর রহমান শিশিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে আব্দুর রহমান ইশানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। তারা জানান, হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার অনুরোধ জানানো হলেও পুলিশ সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ ছাড়া ব্যবস্থা নিতে অপারগতার কথা বলেন।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিল-পরবর্তী ব্রিফিং চলাকালে কয়েকজন সাংবাদিককে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ও ‘ভারতীয় দালাল’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। এর প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে একদল ব্যক্তি সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন ও সহকর্মীরা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।