তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
- / 22
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। পদ্মা সেতুর মতোই প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। এতে উত্তরাঞ্চলের নদীভাঙন, খরা, জলাবদ্ধতা ও কৃষি সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের আশা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (১৯ জুন) নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা এলাকার তিস্তা ব্যারাজ, সেচ ক্যানেল ও চারালকাটা নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “পদ্মা সেতু যেভাবে পরিকল্পনা থেকে বাস্তবে রূপ নিয়েছিল, তিস্তা মহাপরিকল্পনাও একইভাবে কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত একনেকের অনুমোদন পাবে। এরপর প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।”
মন্ত্রী জানান, তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এ মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
খরা ও বন্যার দ্বিমুখী সংকটে তিস্তা অঞ্চল
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির তীব্র সংকটের কারণে উত্তরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে, নদীনির্ভর জীবিকাও হুমকির মুখে পড়ছে। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ার ফলে আকস্মিক ঢল নেমে ভয়াবহ নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, “প্রতিবছর হাজার হাজার পরিবার নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে। পরিকল্পিত নদীশাসন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।”
মন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দুই থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তবে কাজ শেষ হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বিদেশি ঋণ ছাড়াই বাস্তবায়নের সক্ষমতা
পরিদর্শনকালে উপস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদেশি অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প সরকারি অর্থায়নেই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।”
তিনি বলেন, ১০ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে প্রতিবছর দুই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলে সফলভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাবে। প্রয়োজন হলে দেশীয় বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের প্রযুক্তিগত সহায়তাও নেওয়া হবে।
বদলে যাবে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি
সংশ্লিষ্টদের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ তিস্তা অববাহিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, নীলফামারীর জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. সরফরাজ বান্দাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা এক নজরে
সম্ভাব্য ব্যয়: ১২-১৩ হাজার কোটি টাকা
অনুমোদনের পথ: একনেক
বাস্তবায়নকাল: ২-৫ বছর (ধাপে ধাপে)
উপকারভোগী জেলা: নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা
প্রধান লক্ষ্য: নদীশাসন, সেচ সম্প্রসারণ, নদীভাঙন রোধ, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন
অর্থায়ন: সরকারি তহবিল, প্রয়োজনে কারিগরি সহায়তা।
উত্তরাঞ্চলের মানুষের বহু বছরের দাবি ও স্বপ্নের প্রকল্প তিস্তা মহাপরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের পথে। সরকারের ঘোষিত অগ্রাধিকার অনুযায়ী পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা পাড়ের জনপদে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।































