বাংলাদেশ-মালদ্বীপ জলবায়ু অংশীদারিত্বে নতুন গতি
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / 12
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মোঃ নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপের স্বাধীনতার ৬০তম বার্ষিকী উপলক্ষে হুলহুমালে সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
সোমবার (১৫ জুন) আয়োজিত অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম এবং জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ড. আলী শরীফ উপস্থিত ছিলেন। সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনৈতিক কোরের সদস্যবৃন্দ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন। এই কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে মালদ্বীপ ও তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটায়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিটি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে পরিবেশগত সহযোগিতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণের দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় ক্ষয়, জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উভয় দেশই একই ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন।
অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে মালদ্বীপের সরকার ও জনগণকে দেশটির স্বাধীনতার ৬০তম বার্ষিকী এবং বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে হাইকমিশনার বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সহযোগিতাকে জলবায়ু কূটনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন, বনায়ন কর্মসূচি এবং জলবায়ু অভিযোজন উদ্যোগের ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুতর চ্যালেঞ্জ এবং এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, যৌথ উদ্যোগ এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব অপরিহার্য।
হাইকমিশনার দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জলবায়ু অভিযোজন, উপকূলীয় সুরক্ষা, ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, পরিবেশ সচেতনতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় মালদ্বীপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
এ সময় হাইকমিশনার মালদ্বীপ সরকারের উচ্চাভিলাষী ‘ফাইভ মিলিয়ন ট্রি প্রজেক্ট’-এর প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্প পরিবেশ সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা, সর্বোত্তম অনুশীলন এবং কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ের আশ্বাস প্রদান করেন।
হাইকমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে, মালদ্বীপের ‘ফাইভ মিলিয়ন ট্রি প্রজেক্ট’ এবং বাংলাদেশের জাতীয় সবুজায়ন কর্মসূচি, যার আওতায় প্রায় ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, উভয় দেশের পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যৎ নির্মাণের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।
উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামুদ্রিক সম্পদ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলো সরাসরি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের জনগণের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ লক্ষ্যে ভবিষ্যতে জলবায়ু গবেষণা, পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচি, যৌথ বৃক্ষরোপণ অভিযান, সক্ষমতা বৃদ্ধি কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু ফোরামে সমন্বিত সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের অংশগ্রহণ পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে মালদ্বীপের পাশে থাকার বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানটি পরিবেশ সংরক্ষণ ও একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্তের মধ্য দিয়ে শেষ হয়, যা বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।






































