ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নদীপথে পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ করল বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 36

এবার নদীপথে পুশ ইনের চেষ্টা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে একযোগে ১৫ জন মানুষকে নদীপথে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ ইনের (অনুপ্রবেশ) এক অপচেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তাৎক্ষণিক, অত্যন্ত সাহসী ও কঠোর অবস্থানের মুখে ভারতীয় বাহিনীর সেই অবৈধ প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার (১৩ জুন) মধ্যরাতের দিকে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন রোকনপুর বিওপি (Border Outpost) এলাকার দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে এই ঘটনা ঘটে। বিএসএফ সদস্যরা নদীপথ ব্যবহার করে একটি নৌকাযোগে ওই ১৫ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালাচ্ছিল। ওই সময় পুশ ইনের শিকার হতে যাওয়া ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখা (জিরো লাইন) সংলগ্ন ভারতের অভ্যন্তরীণ অংশে অবস্থান করছিলেন।

অবৈধ পুশ ইনের বিষয়টি টের পেয়ে রোকনপুর বিওপির বিজিবি জোয়ানেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কৌশলগত অবস্থান নেন। সীমান্তে তাৎক্ষণিকভাবে কড়া নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সর্বোচ্চ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর ফলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অবশেষে বিজিবির অনমনীয় ও দৃঢ় অবস্থানের মুখে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় ভারতীয় বাহিনী। বিএসএফের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত পিলার ২২০/এমপি সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে ওই ১৫ জনকে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

বিজিবি নিশ্চিত করেছে যে, পুশ ইনের অপচেষ্টা চালানো ওই ১৫ জনের দলের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৮ জন নারী এবং ৫ জন অবুজ শিশু ছিল।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম সংবাদমাধ্যমকে জানান, বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা পুশ ইনের মতো ঘটনা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে সীমান্তজুড়ে বিজিবি এখন সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। একই সাথে সীমান্তে জনসচেতনতামূলক মাইকিং করার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের সক্রিয় সহযোগিতায় রাতের বেলার বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশ ইন ও পারাপার পুরোপুরি বন্ধ করতে বিজিবির এই কঠোর নজরদারি আগামী দিনগুলোতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নদীপথে পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ করল বিজিবি

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে একযোগে ১৫ জন মানুষকে নদীপথে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ ইনের (অনুপ্রবেশ) এক অপচেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তাৎক্ষণিক, অত্যন্ত সাহসী ও কঠোর অবস্থানের মুখে ভারতীয় বাহিনীর সেই অবৈধ প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার (১৩ জুন) মধ্যরাতের দিকে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন রোকনপুর বিওপি (Border Outpost) এলাকার দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে এই ঘটনা ঘটে। বিএসএফ সদস্যরা নদীপথ ব্যবহার করে একটি নৌকাযোগে ওই ১৫ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালাচ্ছিল। ওই সময় পুশ ইনের শিকার হতে যাওয়া ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখা (জিরো লাইন) সংলগ্ন ভারতের অভ্যন্তরীণ অংশে অবস্থান করছিলেন।

অবৈধ পুশ ইনের বিষয়টি টের পেয়ে রোকনপুর বিওপির বিজিবি জোয়ানেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কৌশলগত অবস্থান নেন। সীমান্তে তাৎক্ষণিকভাবে কড়া নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সর্বোচ্চ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর ফলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অবশেষে বিজিবির অনমনীয় ও দৃঢ় অবস্থানের মুখে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় ভারতীয় বাহিনী। বিএসএফের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত পিলার ২২০/এমপি সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে ওই ১৫ জনকে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

বিজিবি নিশ্চিত করেছে যে, পুশ ইনের অপচেষ্টা চালানো ওই ১৫ জনের দলের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৮ জন নারী এবং ৫ জন অবুজ শিশু ছিল।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম সংবাদমাধ্যমকে জানান, বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা পুশ ইনের মতো ঘটনা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে সীমান্তজুড়ে বিজিবি এখন সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। একই সাথে সীমান্তে জনসচেতনতামূলক মাইকিং করার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের সক্রিয় সহযোগিতায় রাতের বেলার বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশ ইন ও পারাপার পুরোপুরি বন্ধ করতে বিজিবির এই কঠোর নজরদারি আগামী দিনগুলোতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে।