বাংলাদেশে আসছে রাশিয়ার ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / 11
রাশিয়ায় চলমান তিন দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে মস্কোতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের বিশেষ উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পারমাণবিক জ্বালানি খাতের বিকাশে এক নতুন ও সম্ভাবনাময় দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে।
এই ফলপ্রসূ বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ প্রকল্পের চলমান সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের মে মাসে প্রথম ইউনিটে সফলভাবে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং সম্পন্ন করার পর এবার জাতীয় গ্রিডে সংযোগ প্রদান ও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর চূড়ান্ত কাউন্টডাউন চলছে, যা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে এক যুগান্তকারী বিপ্লব আনবে। রাশিয়ার রোসাটমের পক্ষ থেকে এই চলমান প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার পাশাপাশি আগামী গ্রীষ্মকালের মধ্যেই রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু করার ব্যাপারে শতভাগ (১০০%) আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তবে এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের সবচেয়ে বড় চমক এসেছে দুই দেশের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে রোসাটম প্রধানের সাম্প্রতিক এক ফলপ্রসূ বৈঠকের সূত্র ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ‘ক্ষুদ্র মডুলার রিঅ্যাক্টর’ (Small Modular Reactor) স্থাপনের সম্ভাবনার কথা তোলেন, তখন রোসাটম মহাপরিচালক বাংলাদেশে রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (Floating Nuclear Power Plant) সরবরাহের এক বিশাল ও যুগান্তকারী সম্ভাবনার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
এর পাশাপাশি, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের তরুণ প্রকৌশলী ও পেশাজীবীদের রিঅ্যাক্টর প্রকৌশল ও এর নিরাপদ পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ করে গড়ে তুলতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিশেষ ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, দেশের এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প সফলভাবে পরিচালনার পাশাপাশি বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তি যেন ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চেও সমান অবদান রাখতে পারেন। বাংলাদেশের এই দূরদর্শী ও সময়োপযোগী প্রস্তাবে রোসাটমের মহাপরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং এই বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার এক বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
































