ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ জটিলতায় গ্রাহকদের ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৭:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / 11

গ্রাহকদের ভোগান্তি

প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে রিচার্জ সংক্রান্ত তীব্র জটিলতার কারণে সাতক্ষীরায় ওজোপাডিকো (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড) কার্যালয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ বিকাশ, রকেট ও নগদের মাধ্যমে ঘরে বসে রিচার্জ করার সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে শত শত গ্রাহককে সরাসরি বিদ্যুৎ অফিসে এসে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

গত রবিবার (৭ জুন) ও আজ সোমবার (৮ জুন) সকালে সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোল এলাকায় অবস্থিত ওজোপাডিকোর গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১০০ থেকে ২০০ জন গ্রাহক রোদের মধ্যে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। কেউ প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করতে, আবার কেউ জরুরি টোকেন নম্বর সংগ্রহ করতে এসেছেন। সকাল থেকেই এই লাইনে নারী-পুরুষ, কলেজশিক্ষার্থী, দিনমজুর ও বয়স্ক মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, গত প্রায় এক মাস ধরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করতে নানা ধরনের কারিগরি জটিলতা দেখা দিচ্ছে। কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়েই তাঁদের দূর-দূরান্ত থেকে ওজোপাডিকোর অফিসে আসতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক গ্রাহকের মিটারে ব্যালেন্স পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

লাইেনে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুর মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল থেকে বিদ্যুৎ রিচার্জের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এত মানুষের ভিড়ের মাঝে কাউন্টার মাত্র একটি। এই গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কখন রিচার্জ শেষ করে মাঠে কাজ করতে যাব বুঝতে পারছি না।” হাফিজুর রহমান নামের অন্য এক গ্রাহক জানান, মিটারে ১৮০ সংখ্যার একটি বিশাল টোকেন নম্বর ম্যানুয়ালি চাপতে হয়, যা টাইপ করতে সামান্য একটু ভুল হলেই নতুন করে বড় ধরনের ঝামেলায় পড়তে হয়। শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত আশিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তি জানান, পায়ে সমস্যার কারণে ঠিকমতো দাঁড়াতে না পারলেও বাধ্য হয়ে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তৃষ্ণা ও ব্যথা নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।

গ্রাহকদের স্পষ্ট দাবি, সেবা সহজ ও আধুনিক করার স্বপ্ন দেখিয়ে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হলেও বর্তমানে তা সাধারণ মানুষের জন্য নতুন এক আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। মিটার হঠাৎ লক হয়ে যাওয়া, রিচার্জের সার্ভার জটিলতা, ব্যাটারির অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও নানাবিধ প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এই দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। অনেকের মতে, প্রিপেইড মিটার এখন তাঁদের জন্য এক প্রকার ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওজোপাডিকোর আওতাধীন সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের মোট গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজারেরও বেশি। এত বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে স্বাভাবিকভাবেই ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

এই ভোগান্তির বিষয়ে সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ (ওজোপাডিকো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মতিয়ার রহমান বলেন, “আমরা চাপ সামলাতে ইতিমধ্যে দুটি কাউন্টার চালুর ব্যবস্থা করেছি এবং প্রয়োজন হলে আরও একটি কাউন্টার বাড়ানো হবে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমেও বিল পরিশোধ ও রিচার্জ করার সুযোগ রয়েছে।” মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কারিগরি সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

তবে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, দ্রুত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন রিচার্জ সুবিধা পুনরায় সচল করা এবং ওজোপাডিকো অফিসে কাউন্টারের সংখ্যা আরও না বাড়ালে আগামী দিনগুলোতে এই ভোগান্তি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাতক্ষীরায় প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ জটিলতায় গ্রাহকদের ভোগান্তি

সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৭:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে রিচার্জ সংক্রান্ত তীব্র জটিলতার কারণে সাতক্ষীরায় ওজোপাডিকো (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড) কার্যালয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ বিকাশ, রকেট ও নগদের মাধ্যমে ঘরে বসে রিচার্জ করার সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে শত শত গ্রাহককে সরাসরি বিদ্যুৎ অফিসে এসে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

গত রবিবার (৭ জুন) ও আজ সোমবার (৮ জুন) সকালে সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোল এলাকায় অবস্থিত ওজোপাডিকোর গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১০০ থেকে ২০০ জন গ্রাহক রোদের মধ্যে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। কেউ প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করতে, আবার কেউ জরুরি টোকেন নম্বর সংগ্রহ করতে এসেছেন। সকাল থেকেই এই লাইনে নারী-পুরুষ, কলেজশিক্ষার্থী, দিনমজুর ও বয়স্ক মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, গত প্রায় এক মাস ধরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করতে নানা ধরনের কারিগরি জটিলতা দেখা দিচ্ছে। কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়েই তাঁদের দূর-দূরান্ত থেকে ওজোপাডিকোর অফিসে আসতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক গ্রাহকের মিটারে ব্যালেন্স পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

লাইেনে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুর মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল থেকে বিদ্যুৎ রিচার্জের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এত মানুষের ভিড়ের মাঝে কাউন্টার মাত্র একটি। এই গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কখন রিচার্জ শেষ করে মাঠে কাজ করতে যাব বুঝতে পারছি না।” হাফিজুর রহমান নামের অন্য এক গ্রাহক জানান, মিটারে ১৮০ সংখ্যার একটি বিশাল টোকেন নম্বর ম্যানুয়ালি চাপতে হয়, যা টাইপ করতে সামান্য একটু ভুল হলেই নতুন করে বড় ধরনের ঝামেলায় পড়তে হয়। শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত আশিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তি জানান, পায়ে সমস্যার কারণে ঠিকমতো দাঁড়াতে না পারলেও বাধ্য হয়ে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তৃষ্ণা ও ব্যথা নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।

গ্রাহকদের স্পষ্ট দাবি, সেবা সহজ ও আধুনিক করার স্বপ্ন দেখিয়ে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হলেও বর্তমানে তা সাধারণ মানুষের জন্য নতুন এক আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। মিটার হঠাৎ লক হয়ে যাওয়া, রিচার্জের সার্ভার জটিলতা, ব্যাটারির অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও নানাবিধ প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এই দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। অনেকের মতে, প্রিপেইড মিটার এখন তাঁদের জন্য এক প্রকার ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওজোপাডিকোর আওতাধীন সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের মোট গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজারেরও বেশি। এত বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে স্বাভাবিকভাবেই ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

এই ভোগান্তির বিষয়ে সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ (ওজোপাডিকো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মতিয়ার রহমান বলেন, “আমরা চাপ সামলাতে ইতিমধ্যে দুটি কাউন্টার চালুর ব্যবস্থা করেছি এবং প্রয়োজন হলে আরও একটি কাউন্টার বাড়ানো হবে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমেও বিল পরিশোধ ও রিচার্জ করার সুযোগ রয়েছে।” মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কারিগরি সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

তবে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, দ্রুত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন রিচার্জ সুবিধা পুনরায় সচল করা এবং ওজোপাডিকো অফিসে কাউন্টারের সংখ্যা আরও না বাড়ালে আগামী দিনগুলোতে এই ভোগান্তি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।