বিরল সফরে উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৭:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
- / 35
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সপ্তাহে এক বিরল সফরে উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সাম্প্রতিক সময়ে পৃথক আতিথ্য দেওয়ার পর চীনা প্রেসিডেন্ট এই কূটনৈতিক সফরে যাচ্ছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া আজ শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি জিনপিং আগামী সোমবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-ও এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ২০১৯ সালের পর এটিই শি জিনপিংয়ের প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর এবং একই সঙ্গে এটি চলতি ২০২৬ বছরে তাঁর প্রথম বিদেশ সফর হতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে বেইজিং তার ঐতিহাসিক কিন্তু জটিল মিত্র পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় উষ্ণ করার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোভিড-১৯ মহামারীর সময় সীমান্ত বন্ধ থাকা এবং পরবর্তীতে উত্তর কোরিয়ার রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির কারণে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে, গত বছর ভ্লাদিমির পুতিনের পিয়ংইয়ং সফরের পর দুই নেতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়ার সৈন্য মোতায়েনের খবরও পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায়, ১৯৬১ সালের চীন-উত্তর কোরিয়া বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তির ৬৫তম বার্ষিকীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শি জিনপিংয়ের এই সফরটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এই সফরের সময়সূচি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, শি জিনপিং হয়তো যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে চাইছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করলেও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল। পরবর্তীতে ট্রাম্প আবারও সেই কূটনৈতিক উদ্যোগ পুনরায় শুরুর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের আলোচনাতেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ইস্যুটি গুরুত্ব পেয়েছে। উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সাম্প্রতিক সময়ে তার পারমাণবিক কর্মসূচি আরও জোরদার করায় এবং কিম জং উন নতুন অস্ত্র উপকরণ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।



































