কাঁকন নদী দখল ও তদন্ত ঘিরে প্রশ্ন-স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
- / 33
রায়পুরার কাঁকন নদী ও আশপাশের সরকারি জমি ঘিরে বালু ভরাট, পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং রাজস্ব অনাদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
জনকল্যাণমুখী অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা ভূমি প্রশাসন মেঘনা গ্রুপের “অদৃশ্য অপশক্তির” প্রভাব বলয়ে তদন্তে “ধামাচাপা” পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া, কাঁকন নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পেশাদারী জেলে ও হিন্দু সম্প্রদায়ের জীবিকায় সংকট ও ধর্মীয় উৎসবে বাঁধায় চরম ভোগান্তি ; নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবিও জানিয়েছে স্থানীয় অধিবাসীরা।
এদিকে রায়পুরায় শতাব্দী বছরের ঐতিহ্যবাহী হিন্দু সম্প্রদায়ের “পাগলনাথ” নামক মন্দিরের পাশ্ববর্তী বয়ে যাওয়া কাঁকন নদীটি পানি প্রবাহে মূল অংশে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ অবৈধভাবে বালু ফালিয়ে দখল করায় প্রতিবছরই মহাঅষ্টমী হাজারো ভক্তের পূর্ণতিথিতে পূণ্যস্ন্যানে ধর্মীয় উৎসবের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে প্রতিবছরের মহোৎসব দূর্গাপূজায় প্রতিমা বিসর্জ্জন কার্যক্রমও চরম জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায় ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে গিয়ে আরও লক্ষ্য করা যায় যে, কাঁকন নদীর তীরবর্তী তিনটি সুইচগেইট বর্তমানে অকেজো ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি,এসব সুইচগেইট গুলো দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকায় পানি নিষ্কাশন ও প্রবাহ ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল জাতীয় দৈনিক অনলাইন “বাংলা অ্যাফেয়ার্স”-এ “রায়পুরায় মেঘনা গ্রুপের রাক্ষসী থাবায় ফসলি, অকৃষি,সরকারি খাস জমি ও কাঁকন নদী” শিরোনামে একটি জনকল্যাণমুখী অনুসন্ধানী ও ভিডিও সংবাদ প্রকাশিত হয়। জনকল্যাণমুখী অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আসে এবং উপজেলা ভূমি প্রশাসন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রায়পুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ শরীফ সরেজমিন তদন্ত করেন।
তবে স্থানীয়দের দাবি জনকল্যাণমুখী অনুসন্ধানী প্রকাশিত সংবাদটির একাংশের অভিযোগ, সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদনে বাস্তব পরিস্থিতির পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি। তাদের দাবি, কাঁকন নদীর অস্তিত্ব, পানি প্রবাহ ও বালু ভরাটের বিষয়গুলো প্রতিবেদনে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে তদন্ত প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জনকল্যাণমুখী অনুসন্ধানী প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়, রায়পুরা ইউনিয়নের সাহারখোলা এলাকার মাহমুদপুর ও চর বাখরনগর মৌজাজুড়ে মালিকানাধীন ফসলি, অকৃষি ও সরকারি খাস জমির মোট ৫৮টি দাগে প্রায় ১০ দশমিক ৩০ একর প্রস্তাবিত লীজ জমির নির্ধারিত ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকার রাজস্ব এখনও আদায় হয়নি। কিন্তু প্রস্তাবিত লীজের জমিতে জোরপূর্বক অবৈধভাবে বালু ফালিয়ে দখল করার অভিযোগ রয়েছে।
জনকল্যাণমুখী অনুসন্ধানী প্রকাশিত সংবাদে
রায়পুরা ও বাখরনগর মৌজায় সংস্পর্শ সংযোগস্থল দিয়ে প্রবাহিত কাঁকন নদীর অস্তিত্ব পৃথক আর.এস দাগেও প্রতিফলিত রয়েছে।
উপজেলা ভূমি অফিসসূত্রে জানা যায়, গত বছর ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নদীর অস্তিত্বের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি অফিসের প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে প্রতিনিধি জানতে চাইলে নরসিংদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মরত প্রকৌশলী নাজমুলকে কয়েকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করিলে রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রায়পুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভূঁইয়া মাসুদ জানান, কাঁকন নদীর পানি প্রবাহ মেঘনা গ্রুপ ঠিক রেখে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ড্রাষ্ট্রিজ প্রতিষ্ঠিত করার আহবান জানান এবং নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তাছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির পূজা উদযাপন ফন্ট যুগ্ম মহাসচিব সজল পাল চৈ জানান,এই কাঁকন নদীর ভিত্তিতে শতবছরের ঐতিহ্যবাহী “পাগলনাথ মন্দির” হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজারো ভক্ত প্রতিবছরই পূর্ণতিথিতে সমাগম হয়।মেঘনা গ্রুপ কাঁকন নদী বন্ধ করায় ঐতিহ্যবাহী “পাগলনাথ মন্দির” বিলুপ্তির পথে।
তাছাড়াও এই বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিক মেঘনা গ্রুপের রায়পুরা শাখার কর্মরত জালাল উদ্দীনকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে অপ্রসাঙ্গিক কথাবার্তা ও সরকার পরিবর্তনের কারণে এখনও সম্ভব হয়নি বলে জানান।
এ বিষয়ে প্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে রায়পুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ শরীফ প্রকাশিত জনকল্যাণমুখী অনুসন্ধানী সংবাদটি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে একটি লিখিত প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাখিল করেন।
তবে সরকারি খাস জমির প্রস্তাবিত লীজের নির্ধারিত রাজস্ব এখনও আদায় না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় এখনও রাজস্ব পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।”
অন্যদিকে এ বিষয়ে প্রতিনিধি জনকল্যাণমুখী অনুসন্ধানী প্রকাশিত সংবাদটি তদন্তে মিথ্যা প্রমাণ করার জানতে চাইলে রায়পুরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন পাল বলেন, “এটা আমি বলেনি সরেজমিন তদন্তে বলছে”।
তাছাড়াও প্রতিনিধি সরকারি খাস জমির প্রস্তাবিত লীজের নির্ধারিত ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা এখনও আদায় হয়নি কেন? কিন্তু এ বিষয়টি এখনও জানাননি।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কাঁকন নদী, কৃষিজমি, সরকারি খাস জমি জোরপূর্বক অবৈধভাবে বালু ভরাট,রাজস্ব বঞ্চনা, সুইচগুলো অকেজো ও পরিত্যক্ত ও স্থানীয় হিন্দু জেলে জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও ঐতিহ্যবাহী “পাগলনাথ মন্দির” মহাঅষ্টমী উৎসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বহুমাত্রিক তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবেশ, রাজস্ব ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।



































