শূন্য লোডশেডিং দাবি বিদ্যুৎমন্ত্রীর
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:০১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
- / 71
দেশে নিয়মিত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তার মতে, যেসব বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে, সেগুলো মূলত কারিগরি সমস্যার ফল।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় দিনের আলোচনার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বড় ধরনের ঘাটতির কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই। তবে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িক বিচ্ছিন্নতা দেখা গেলে সেটিকে লোডশেডিং হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না, বরং তা লাইনের ত্রুটি বা যান্ত্রিক জটিলতার কারণে ঘটছে।
মন্ত্রী আরও দাবি করেন, অতীতে কিছু সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জ্বালানি পরিস্থিতিকে অস্থির করা হয়েছিল। সেই ধরনের অনিয়ম বা চুরি–সংক্রান্ত ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
এদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানায়, ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত টানা কয়েকদিন জাতীয় গ্রিডে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় থাকায় কোথাও আনুষ্ঠানিক লোডশেডিং হয়নি। সংস্থাটির চেয়ারম্যানের ভাষ্যমতে, উৎপাদন সক্ষমতা এখন আগের তুলনায় তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে, যদিও কিছু ছোট কেন্দ্রের সমস্যা আগে প্রভাব ফেলেছিল।
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে। বিশেষ করে পটুয়াখালীর একটি বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে, আরেকটি ইউনিট শিগগিরই চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ ও মে মাসের শুরুতে বিভিন্ন দিনে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সমান সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। কয়েকদিনে চাহিদা ১০ থেকে প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে ওঠানামা করলেও বড় কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতেও এই সরবরাহ পরিস্থিতি ধরে রাখার চেষ্টা চলবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যদিও বাস্তব পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে জ্বালানি সরবরাহ ও কেন্দ্রগুলোর স্থিতিশীলতার ওপর।

































