ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংস্কারের নামে নির্বাচন ভণ্ডুল শঙ্কায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 42

সংস্কার ইস্যুতে রাজনৈতিক সমঝোতা, জুলাই সনদ এবং নির্বাচন প্রসঙ্গে অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংসদে কঠোর ভাষায় কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রাজনৈতিক সংস্কার, জুলাই সনদ এবং আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নানা বিতর্কিত প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে ছিল সমঝোতার বাস্তবতা, আবার সেই সমঝোতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে স্পষ্ট অসন্তোষও।

তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের স্বার্থে অনেক বিষয় তখন ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, সংস্কারের নাম করে নির্বাচন প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলেই বিভিন্ন বিষয়ে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করতে হয়েছে।

ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে শুরুতে যেভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, পরে সেখানে ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যুক্ত করার বিষয় আসে। শেষ পর্যন্ত সেই ভিন্নমতসহই জুলাই সনদ চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে তিনি অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, এ নিয়ে বিএনপির অবস্থানও তখন স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল এবং দলটি বিকল্প কোনো কাঠামো মেনে নিতে রাজি ছিল না।

রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বিদেশফেরত কিছু ব্যক্তির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন, যাদের উদ্যোগকে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেন। তাঁর মতে, নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত একটি সনদ তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাক্‌স্বাধীনতার ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর পর্যবেক্ষণ, অনিয়ন্ত্রিত বক্তব্য ও কটূক্তির প্রবণতা সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে এবং সাংস্কৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবারকে জড়িয়ে যেভাবে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য সহায়ক নয় বলেই তাঁর ধারণা।

বিরোধী দল ও নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যাতে ইতিহাস বা রাজনৈতিক চেতনাকে ‘ব্যবসায়িক পুঁজি’ হিসেবে ব্যবহার না করা হয়।

ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন নিয়েও তিনি বিরোধী দলকে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে অভিনন্দন জানান, যদিও তা কিছুটা কৌতুকের সুরেই ছিল বলে মনে হয়েছে।

অর্থনৈতিক খাত, বিশেষ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ও দখল প্রসঙ্গে তিনি অতীত ও বর্তমান—দুই সময়ের রাজনৈতিক চর্চার সমালোচনামূলক তুলনা টানেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সংস্কারের নামে নির্বাচন ভণ্ডুল শঙ্কায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

সংস্কার ইস্যুতে রাজনৈতিক সমঝোতা, জুলাই সনদ এবং নির্বাচন প্রসঙ্গে অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংসদে কঠোর ভাষায় কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রাজনৈতিক সংস্কার, জুলাই সনদ এবং আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নানা বিতর্কিত প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে ছিল সমঝোতার বাস্তবতা, আবার সেই সমঝোতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে স্পষ্ট অসন্তোষও।

তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের স্বার্থে অনেক বিষয় তখন ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, সংস্কারের নাম করে নির্বাচন প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলেই বিভিন্ন বিষয়ে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করতে হয়েছে।

ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে শুরুতে যেভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, পরে সেখানে ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যুক্ত করার বিষয় আসে। শেষ পর্যন্ত সেই ভিন্নমতসহই জুলাই সনদ চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে তিনি অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, এ নিয়ে বিএনপির অবস্থানও তখন স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল এবং দলটি বিকল্প কোনো কাঠামো মেনে নিতে রাজি ছিল না।

রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বিদেশফেরত কিছু ব্যক্তির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন, যাদের উদ্যোগকে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেন। তাঁর মতে, নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত একটি সনদ তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাক্‌স্বাধীনতার ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর পর্যবেক্ষণ, অনিয়ন্ত্রিত বক্তব্য ও কটূক্তির প্রবণতা সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে এবং সাংস্কৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবারকে জড়িয়ে যেভাবে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য সহায়ক নয় বলেই তাঁর ধারণা।

বিরোধী দল ও নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যাতে ইতিহাস বা রাজনৈতিক চেতনাকে ‘ব্যবসায়িক পুঁজি’ হিসেবে ব্যবহার না করা হয়।

ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন নিয়েও তিনি বিরোধী দলকে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে অভিনন্দন জানান, যদিও তা কিছুটা কৌতুকের সুরেই ছিল বলে মনে হয়েছে।

অর্থনৈতিক খাত, বিশেষ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ও দখল প্রসঙ্গে তিনি অতীত ও বর্তমান—দুই সময়ের রাজনৈতিক চর্চার সমালোচনামূলক তুলনা টানেন।