ববি ক্রীড়া দপ্তরের কর্মকর্তা সেলিনাকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে বহিষ্কারের দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
- / 28
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তাকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন ফুটবল দলের সদস্যরা। লিখিত অভিযোগে পুরো দপ্তরের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগমকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তারা উপাচার্যের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এর আগে খেলোয়াড়রা সরাসরি উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দপ্তরটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উপস্থাপন করেন। তাদের দাবি, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট চলাকালে মাঠে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় দলীয় কার্যক্রম ব্যাহত হয়। লিখিত আবেদনে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নয়, দপ্তরের অন্যান্য কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
খেলোয়াড়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ম্যাচের সময় মাঠে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় তারা অংশগ্রহণে সমস্যায় পড়েন। পাশাপাশি নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিতি, ফোন না ধরা এবং বিভিন্ন সময়ে অসহযোগিতার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
লিখিত আবেদনে আরও বলা হয়—প্র্যাকটিস চলাকালীন সময়ে মাঠে তদারকির অভাব ছিল, প্রতিযোগিতার ফরম পূরণে গাফিলতি হয়েছে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালেও পর্যাপ্ত যোগাযোগ রাখা হয়নি। একই সঙ্গে ক্রীড়া সরঞ্জাম সংগ্রহ ও প্রশাসনিক অনুমতি সংক্রান্ত কাজেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগপত্রে খেলোয়াড়রা আরও দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দপ্তরের অসহযোগিতার কারণে তারা জটিলতায় পড়েছেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে মাঠের কাজ নিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে অভিযোগপত্রে কিছু বিতর্কিত বক্তব্যও স্থান পেয়েছে, যেখানে দপ্তরের কর্মপরিবেশ ও আচরণ নিয়ে কঠোর মন্তব্য করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
খেলোয়াড়দের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে—৬ ঘণ্টার মধ্যে সেলিনা বেগমকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত, দপ্তরের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস এবং মাঠ পর্যায়ে অভিজ্ঞ ক্রীড়া প্রশিক্ষক নিয়োগ।
এদিকে অভিযোগের আরেক অংশে তার ব্যক্তিগত আচরণ ও পূর্ববর্তী আইনি জটিলতা নিয়েও নানা দাবি করা হলেও সেগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের তদন্ত ছাড়া এসব অভিযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।































