এক বছরে সেশনজটমুক্ত হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়?
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 19
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সেশনজট কমাতে সময় বেঁধে দিচ্ছে। একই সঙ্গে মান বজায় রাখতে ব্যর্থ কলেজগুলোর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স বন্ধের ইঙ্গিতও স্পষ্ট।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে সেশনজট শূন্যে নামাতে একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ধানমন্ডি ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করে বলেন, অনেক কলেজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কোর্স অনুমোদন পেলেও সেগুলো যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। কোথাও শিক্ষক নেই, কোথাও অবকাঠামো অপ্রতুল—এই বাস্তবতা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি যুক্ত করে বলেন, নতুন করে কোর্স চালুর প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং যেসব কলেজ মান বজায় রাখতে পারবে না, সেসব কোর্স বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বিশ্লেষণ করেন, কেবল ডিগ্রি নয়, ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাও এখন সমান জরুরি। সে কারণেই স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি শিক্ষাকে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম বর্ষের পাশাপাশি পরের বছরগুলোতেও কমিউনিকেটিভ ইংলিশ অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা রয়েছে। একই সঙ্গে আইসিটি দক্ষতা বাড়াতে অতিরিক্ত কোর্স যোগ করার বিষয়টি বিবেচনায় আছে।
আইসিটি শিক্ষার ঘাটতি পূরণে একটি বড় উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইউনিসেফের সহায়তায় প্রায় ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। তিনি উল্লেখ করে বলেন, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আইসিটি শিক্ষায় যুক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষা কাঠামো নিয়ে তিনি কিছুটা বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং, সাইবার সিকিউরিটি কিংবা রোবোটিকস—এসব বিষয়ে নতুন কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি যুক্ত করে বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তারে স্টিম ভিত্তিক উদ্যোগও ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।
আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মেলানোর প্রশ্নে তিনি উল্লেখ করে বলেন, বিদেশি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই হাইব্রিড পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পেতে পারে। তিনি বলেন, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহায়তায় ইংরেজি শিক্ষায় মেন্টরিং চালুর বিষয়টিও আলোচনায় আছে।
কর্মসংস্থানের বাস্তবতা প্রসঙ্গে এসে তিনি বিশ্লেষণ করেন, শিক্ষার্থীদের অর্জিত দক্ষতা এবং শিল্পখাতের চাহিদার মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধান রয়েছে।
তিনি বলেন, এই ব্যবধান কমাতে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে, যেখানে আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন হবে তা নির্ধারণ করা হবে।
তিনি যুক্ত করে বলেন, মূল ডিগ্রির পাশাপাশি স্কিলভিত্তিক কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত সার্টিফিকেট নিয়ে চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারে।
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে নতুন নিয়মের কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ৬০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার ফলে ইতোমধ্যে কিছু কলেজে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তবে শিক্ষকসংকট এখনও বড় চ্যালেঞ্জ—এমনটাই ইঙ্গিত দেন তিনি।
এই সংকট মোকাবিলায় বড় পরিসরে নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও সামনে আসে। তিনি বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে ৬৫ থেকে ৭৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১২ হাজার প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপাল নিয়োগ প্রক্রিয়াও চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।





































