ইরানের ‘বন্ধু’ কারা, হরমুজে ছাড়ে প্রশ্ন
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 4
কৌশলগত জলপথ হরমুজে ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোর জন্য ফি মওকুফের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এতে বাণিজ্যিক চলাচলে সুবিধা মিললেও, ভূ-রাজনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার নিয়ে ইরান নতুন অবস্থান নিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধুপ্রতিম’ রাষ্ট্রের জন্য এই পথ দিয়ে যাতায়াতে কোনো ফি বা মাশুল নেওয়া হবে না। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি বলেন, কিছু দেশের জন্য এই সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এই নীতির পরিসর কীভাবে বদলাবে, সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
তিনি উল্লেখ করে বলেন, আপাতত মিত্র রাষ্ট্রগুলো যেন অতিরিক্ত ব্যয় বা জটিলতা ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করতে পারে, সেটিই নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও যোগ করেন, কোন কোন দেশ এই সুবিধার আওতায় থাকবে—তা নির্ধারণে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। উদাহরণ হিসেবে রাশিয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাশিয়ার মতো ঘনিষ্ঠ দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে এই ছাড় কার্যকর করতে তেহরান আগ্রহী।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখছেন। তারা বিশ্লেষণ করে বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিছক অর্থনৈতিক নয়; এর পেছনে কূটনৈতিক বার্তাও রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের এক কেন্দ্রীয় রুট। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে মাশুল আরোপ বা ছাড়—দুটিই বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, যখন ইরানের ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি বা জোরদারের আলোচনা চলছে, তখন মিত্র দেশগুলোর জন্য ফি মওকুফের সিদ্ধান্তকে অনেকে পাল্টা কৌশল হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এর মাধ্যমে তেহরান একদিকে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কগুলোকে আরও দৃঢ় করতে চাইছে, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার চাপ কিছুটা লাঘবের পথও খুঁজছে।
একই সঙ্গে এই ঘোষণা পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে—এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, কার কাছ থেকে মাশুল নেওয়া হবে আর কাকে ছাড় দেওয়া হবে—এই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইরান প্রণালিটির ওপর নিজের প্রভাব নতুনভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
এখন প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে, মিত্র দেশগুলোর বাইরে অন্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য ভবিষ্যতে ইরান কতটা কঠোর অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে হরমুজ প্রণালি শুধু বাণিজ্যের নয়, কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশেরও এক স্পর্শকাতর ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
































