ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ন্যাটো’ ভাঙ্গনের মুখে,স্পেনকে বহিষ্কারের প্রস্তাব ট্রাম্পের

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:১২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 14

ইরান ইস্যুতে সমর্থন না মেলায় ন্যাটো মিত্রদের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আলোচনা—এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থন না জানানোয় মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নানা পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্পেনকে সাময়িকভাবে ন্যাটো থেকে বহিষ্কারের প্রস্তাবও উঠে এসেছে।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ওয়াশিংটন ও মাদ্রিদের সম্পর্ক যে অস্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ওই ইমেইলে শুধু স্পেন নয়, যুক্তরাজ্য নিয়েও কঠোর অবস্থানের আভাস রয়েছে। সেখানে বলা হয়, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে লন্ডনের দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে। সংস্থাটি উল্লেখ করে বলে, সাধারণত এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের পাশে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, এ ধরনের প্রস্তাব ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর মার্কিন সামরিক অগ্রাধিকার চাপিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। তারা বিশ্লেষণ করে বলেন, কোনো একক সামরিক অভিযানে সমর্থন না দেওয়ার কারণে একটি দেশকে জোট থেকে সরিয়ে দেওয়ার আলোচনা জোটের ভেতরের আস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

পেন্টাগনের এই অভ্যন্তরীণ আলোচনা প্রকাশ্যে আসায় ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনসহ বৈশ্বিক নানা সংকটে যেখানে জোটের ঐক্য জরুরি, সেখানে এমন পদক্ষেপ জোটের ভিত্তি দুর্বল করতে পারে।

স্পেনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত করে বলে, মাদ্রিদ এই ধরনের পদক্ষেপকে তাদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা শুরুর পর থেকেই ন্যাটোর অনেক সদস্য সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিকে তাদের সামরিক কৌশলের পথে বাধা হিসেবে দেখছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে মিত্রদের অবস্থান প্রভাবিত করতে স্পেন ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর ওপর কঠোর বার্তা দেওয়ার চিন্তা চলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আটলান্টিক অঞ্চলের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কেও স্থায়ী চাপ তৈরি হতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

‘ন্যাটো’ ভাঙ্গনের মুখে,স্পেনকে বহিষ্কারের প্রস্তাব ট্রাম্পের

সর্বশেষ আপডেট ০৪:১২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরান ইস্যুতে সমর্থন না মেলায় ন্যাটো মিত্রদের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আলোচনা—এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থন না জানানোয় মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নানা পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্পেনকে সাময়িকভাবে ন্যাটো থেকে বহিষ্কারের প্রস্তাবও উঠে এসেছে।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ওয়াশিংটন ও মাদ্রিদের সম্পর্ক যে অস্বস্তিকর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ওই ইমেইলে শুধু স্পেন নয়, যুক্তরাজ্য নিয়েও কঠোর অবস্থানের আভাস রয়েছে। সেখানে বলা হয়, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে লন্ডনের দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে। সংস্থাটি উল্লেখ করে বলে, সাধারণত এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের পাশে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, এ ধরনের প্রস্তাব ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর মার্কিন সামরিক অগ্রাধিকার চাপিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। তারা বিশ্লেষণ করে বলেন, কোনো একক সামরিক অভিযানে সমর্থন না দেওয়ার কারণে একটি দেশকে জোট থেকে সরিয়ে দেওয়ার আলোচনা জোটের ভেতরের আস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

পেন্টাগনের এই অভ্যন্তরীণ আলোচনা প্রকাশ্যে আসায় ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনসহ বৈশ্বিক নানা সংকটে যেখানে জোটের ঐক্য জরুরি, সেখানে এমন পদক্ষেপ জোটের ভিত্তি দুর্বল করতে পারে।

স্পেনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত করে বলে, মাদ্রিদ এই ধরনের পদক্ষেপকে তাদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা শুরুর পর থেকেই ন্যাটোর অনেক সদস্য সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিকে তাদের সামরিক কৌশলের পথে বাধা হিসেবে দেখছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে মিত্রদের অবস্থান প্রভাবিত করতে স্পেন ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর ওপর কঠোর বার্তা দেওয়ার চিন্তা চলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আটলান্টিক অঞ্চলের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কেও স্থায়ী চাপ তৈরি হতে পারে।