দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন আসিফ নজরুল
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
- / 121
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছাড়ার পর নতুন করে দুর্নীতির অভিযোগ ছড়াতে থাকায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ড. আসিফ নজরুল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সমালোচকদের প্রতি।
শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন ড. আসিফ নজরুল। সেই সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছিল। সরকার বিদায়ের পর সেগুলো আবারও নতুন মাত্রা পায়।
বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার গুঞ্জনের কথা তোলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে ইউটিউবে এমন একটি খবর ছড়ানো হয় যে তিনি আমেরিকায় বাড়ি কিনেছেন, পরিবারকে সেখানে পাঠিয়েছেন এবং শিগগিরই নিজেও চলে যাবেন।
বিষয়টি পরে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দিন-এর এক অনুষ্ঠানে উঠলে তিনি প্রকাশ্যেই চ্যালেঞ্জ জানান—যুক্তরাষ্ট্রে তার কোনো বাড়ি থাকলে তার প্রমাণ হাজির করতে। তার দাবি, আট মাস পেরিয়ে গেলেও কেউ কোনো দলিল বা ঠিকানা দেখাতে পারেনি। কারণ যুক্তরাষ্ট্র তো দূরের কথা, বাংলাদেশের বাইরে কোথাও তার কোনো সম্পত্তি নেই।
তিনি বলেন, সরকার ছাড়ার পর আবারও তার ও কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে তথাকথিত দুর্নীতির খবর ছড়ানো শুরু হয়। প্রথমে অনলাইনের কিছু অখ্যাত মাধ্যমে, পরে সেগুলো কপি করে আরও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। তার মতে, যেসব মহল অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সন্তুষ্ট ছিল না, তাদের কিছু গণমাধ্যমেও এসব অভিযোগ জায়গা পায়।
তবে তিনি দাবি করেন, দায়িত্বে থাকাকালে বা জীবনের কোনো সময়েই তিনি এক টাকাও দুর্নীতি করেননি। নতুন কোনো ব্যাংক হিসাব খোলেননি, অঘোষিত সম্পদ অর্জন করেননি, আয়কর নথিতে কিছু গোপন রাখেননি। তার জ্ঞাতসারে কাউকে অনিয়মের সুযোগও দেওয়া হয়নি।
স্বজনপ্রীতির অভিযোগও নাকচ করেছেন তিনি। জানান, প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগের সময় একজন আত্মীয়কেও নিয়োগ দেননি। পরিবার বা আত্মীয়স্বজনকে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
এলাকাভিত্তিক পক্ষপাতের কথাও তিনি অস্বীকার করেন। উপদেষ্টা থাকাকালে নিজ গ্রাম বা ঢাকার যে এলাকায় বড় হয়েছেন, সেখানে যাননি বলেই উল্লেখ করেন। শুধু নিয়ম মেনে লালবাগ শাহী মসজিদ-এর জরুরি উন্নয়নে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা পেতে সহায়তা করেছেন।
পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসুর আবেদনে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে অনুরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের উন্নয়নে অনুদান আনার কথাও জানান। এর বাইরে কারও জন্য অনুদানের সুপারিশ করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে অপবাদ নিয়ে আক্ষেপের সুর শোনা যায়। অতীতে বহুবার অভিযোগের মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো টেকেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি। কারও সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর ইচ্ছা নেই জানিয়ে তার বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত সত্যই টিকে থাকবে।



































