ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রয়টার্সের প্রতিবেদন

ক্ষমতায় ফিরেই সংস্কার, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জোর দেবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 43

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলটির নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী, ক্ষমতা গ্রহণের পর সাংবিধানিক সংস্কার, অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারই অগ্রাধিকার পাবে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় লাভ করে। জেন-জি তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই ফলাফল দেশে স্থিতিশীলতা ফেরাবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা রয়েছে।

দলটির নির্বাচনী স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’কে সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারকে বড় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ‘জুলাই সনদ’-এর সব দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

অর্থনীতি ও বাণিজ্য খাতে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা, রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনা এবং বৈধ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নির্ধারিত লভ্যাংশ ৩০ দিনের মধ্যে নিজ দেশে পাঠানোর সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু, আঞ্চলিক ই-কমার্স হাব প্রতিষ্ঠা এবং ‘মেক ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে প্রায় ১০ লাখ নতুন চাকরি সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্যসূচকভিত্তিক ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত এবং প্রতি দুই বছর অন্তর তা পর্যালোচনার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। তরুণদের কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনায় মাসিক সহায়তা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা, সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি চালু, দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন, উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নির্বাচনের পরদিন রাজধানীর একটি বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে, যা নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রয়টার্সের প্রতিবেদন

ক্ষমতায় ফিরেই সংস্কার, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জোর দেবে বিএনপি

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলটির নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী, ক্ষমতা গ্রহণের পর সাংবিধানিক সংস্কার, অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারই অগ্রাধিকার পাবে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় লাভ করে। জেন-জি তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই ফলাফল দেশে স্থিতিশীলতা ফেরাবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা রয়েছে।

দলটির নির্বাচনী স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’কে সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারকে বড় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ‘জুলাই সনদ’-এর সব দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

অর্থনীতি ও বাণিজ্য খাতে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা, রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনা এবং বৈধ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নির্ধারিত লভ্যাংশ ৩০ দিনের মধ্যে নিজ দেশে পাঠানোর সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু, আঞ্চলিক ই-কমার্স হাব প্রতিষ্ঠা এবং ‘মেক ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে প্রায় ১০ লাখ নতুন চাকরি সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্যসূচকভিত্তিক ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত এবং প্রতি দুই বছর অন্তর তা পর্যালোচনার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। তরুণদের কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনায় মাসিক সহায়তা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা, সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি চালু, দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন, উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নির্বাচনের পরদিন রাজধানীর একটি বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে, যা নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরছে।