ইউরোপে অবৈধ প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশিরা!
- সর্বশেষ আপডেট ১২:০৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 179
ইউরোপে অবৈধ অভিবাসন সামগ্রিকভাবে কমলেও ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশকারীদের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন বাংলাদেশিরা। ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফ্রন্টেক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে সমুদ্রপথ ও বলকান সীমান্ত দিয়ে ইউরোপে অবৈধ প্রবেশ আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কমেছে। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ অবৈধভাবে প্রবেশ করে। এর মধ্যে শুধু ভূমধ্যসাগর পথেই ঢুকেছে ৬৬ হাজার ৩২৮ জন।
ফ্রন্টেক্সের প্রাথমিক তথ্যে দেখা যায়, ভূমধ্যসাগর রুটে অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরাই সংখ্যায় বেশি। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে মিসর এবং তৃতীয় স্থানে ইরিত্রিয়ার নাগরিকরা। সংস্থাটি জানায়, ২০২৩ সালের তুলনায় এই সংখ্যা অর্ধেকেরও কম এবং ২০২১ সালের পর এটি সর্বনিম্ন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগর রুটে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে লিবিয়া থেকে ইতালির দিকে যাত্রায় বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি।
অন্যদিকে পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও পশ্চিম বলকান রুটে অবৈধ প্রবেশ কমলেও পূর্ব লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে প্রবেশ তিন গুণের বেশি বেড়েছে। এই পথে ৫১ হাজার ৩৯৯ জন ইউরোপে ঢুকেছেন, যাদের বেশিরভাগই আফগানিস্তান, সুদান ও মিশরের নাগরিক। পশ্চিম আফ্রিকা রুটেও প্রবেশ কমেছে, তবে পশ্চিম ভূমধ্যসাগর পথে আলজেরিয়া, সোমালিয়া ও মরক্কোর নাগরিকরা বেশি ছিলেন।
ফ্রন্টেক্স সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানব পাচারকারী চক্রের তৎপরতার কারণে অভিবাসনের চাপ এক রুট থেকে অন্য রুটে দ্রুত সরে যেতে পারে। সংস্থাটি জানায়, ২০২৬ সালের জুন থেকে ইউরোপে নতুন মাইগ্রেশন ও আশ্রয় চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হবে। একই সঙ্গে চালু হবে নতুন এন্ট্রি-এক্সিট ব্যবস্থা ও ভ্রমণ অনুমোদন পদ্ধতি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাগরপথে অভিবাসন কমলেও ঝুঁকি এখনো কমেনি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার হিসাবে, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পথে অন্তত ১ হাজার ৮৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
































