১২ ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি চায় বাংলাদেশ
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 21
চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বরের আগেই ভারতের সঙ্গে নতুন গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানিয়েছেন, নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ পুনর্বহাল করাই বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বর্তমান গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ শেষ হবে। নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন চুক্তি করতে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিয়মিতভাবে কাজ করছে। বৈঠকগুলোর অগ্রগতিতে বাংলাদেশ আশাবাদী, সময়সীমার মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে পাঁচ বছর মেয়াদি গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। পরে ১৯৯৬ সালে নতুন চুক্তিতে ওই ধারা রাখা হয়নি। এবার গ্যারান্টি ক্লজ ফিরিয়ে আনাই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প প্রসঙ্গে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রকল্পটির কাজ দৃশ্যমান করতে একনেকে অনুমোদন পাওয়া গেছে। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে এর কাজ দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি দ্রুত শুরু করা হবে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করে একই বছরে মূল কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
পদ্মা ও তিস্তা প্রকল্পে কোনো বিদেশি চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্পে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশের মানুষের স্বার্থ। পদ্মা ও তিস্তার তীরবর্তী মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারাজের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করতেই ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েক মাসের মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছে। তিস্তার মতো বড় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইও সময়সাপেক্ষ। প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিয়ে সরকার নিজ উদ্যোগে কাজটি শেষ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে।


































