শনিবার চাঁদপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
- / 22
দীর্ঘ ২২ বছর পর আগামী শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও উৎসাহ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্ভাব্য কর্মসূচির স্থানগুলো পরিদর্শন ও প্রস্তুতি কার্যক্রম তদারকি করছেন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জেলার একাধিক উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন ও অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। এর মধ্যে খাল পুনর্খনন প্রকল্পের উদ্বোধন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের সার্বিক মূল্যায়ন রয়েছে। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে তিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাও দিতে পারেন।
পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীবেষ্টিত চাঁদপুর সম্ভাবনাময় একটি জেলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় পিছিয়ে রয়েছে। নদীভাঙন এখানকার মানুষের প্রধান দুর্ভোগ হিসেবে রয়ে গেছে।
শিক্ষা খাতে সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ থাকলেও স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে। শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবিও দীর্ঘদিনের।
এই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ বিরতির পর প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নতুন আশার কথা বলছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, নদীভাঙন রোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিল্পায়নের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ আসবে।
জানা গেছে, সফরের দিন সকালেই চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোদ খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি। পরে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী এলাকার বিশ্ব খাল পুনর্খনন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে।
বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৫টায় চাঁদপুর ক্লাবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে ৩৭০ জনের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে দেশের ২২টি জেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই সফরকে ঘিরে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তারা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, চাঁদপুর–কুমিল্লা সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, পর্যটন খাতের বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।
চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, ইপিজেড প্রতিষ্ঠা এখন জেলার অন্যতম প্রধান দাবি। তার মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে শুধু চাঁদপুর নয়, আশপাশের জেলাগুলোর জন্যও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।




































