ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেনদেনে ধস, আস্থার সংকটে পুঁজিবাজার

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 18

লেনদেনে ধস, আস্থার সংকটে পুঁজিবাজার

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে; এমন প্রত্যাশা ছিল বিনিয়োগকারীদের। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর যে আশা তৈরি হয়েছিল, তাতেও এখন ভাটা পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার কথা ভাবছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অনেকে।

পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত পরিষদের সভাপতি এএনএম আতাউল্লাহ নাঈম বলেন, ৫ আগস্টের আগে ও পরে এবং বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজার নিয়ে যে আশ্বাস তৈরি হয়েছিল, তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তিনি জানান, তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি বিনিয়োগ করলেও এর সুফল পেতে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

আতাউল্লাহ নাঈমের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে রাখা সম্ভব হলেও বাজারে কারসাজির প্রবণতা থাকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট কাটছে না।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজারের সূচক বেড়ে প্রায় ছয় হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রাখা যায়নি। সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনও। দেড় হাজার কোটি টাকার ঘর থেকে নেমে লেনদেন এখন প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ থাকছে। বাজারের এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশীদ লালী বলেন, দেশের সামগ্রিক বাণিজ্যিক পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। এর সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিজেদের সীমিত সঞ্চয় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে যে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন, তা তাঁদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় পুঁজিবাজারে অর্থের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে ব্যাংকে বেশি সুদ পাওয়ার সুযোগ থাকলে অনেকেই শেয়ারবাজারে অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহ হারাতে পারেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারসাজি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে অর্থের প্রবাহ কতটা থাকবে, তা নির্ধারণে সুদহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতির প্রভাব রয়েছে। তাঁর আশা, এখন সুদহার না কমলেও ভবিষ্যতে কমানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অর্থনীতিতে গতি কম থাকলেও পুঁজিবাজার কিছুটা ভালো করার সুযোগ পেতে পারে।

পুঁজিবাজারে সংস্কারের নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও সুশাসন, স্বচ্ছতা ও আস্থার সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা না গেলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন তাই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষা; কবে কাটবে পুঁজিবাজারের দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা, কবে ফিরবে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

লেনদেনে ধস, আস্থার সংকটে পুঁজিবাজার

সর্বশেষ আপডেট ০১:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে; এমন প্রত্যাশা ছিল বিনিয়োগকারীদের। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর যে আশা তৈরি হয়েছিল, তাতেও এখন ভাটা পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার কথা ভাবছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অনেকে।

পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত পরিষদের সভাপতি এএনএম আতাউল্লাহ নাঈম বলেন, ৫ আগস্টের আগে ও পরে এবং বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজার নিয়ে যে আশ্বাস তৈরি হয়েছিল, তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তিনি জানান, তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি বিনিয়োগ করলেও এর সুফল পেতে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

আতাউল্লাহ নাঈমের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে রাখা সম্ভব হলেও বাজারে কারসাজির প্রবণতা থাকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট কাটছে না।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজারের সূচক বেড়ে প্রায় ছয় হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রাখা যায়নি। সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনও। দেড় হাজার কোটি টাকার ঘর থেকে নেমে লেনদেন এখন প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ থাকছে। বাজারের এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশীদ লালী বলেন, দেশের সামগ্রিক বাণিজ্যিক পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। এর সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিজেদের সীমিত সঞ্চয় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে যে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন, তা তাঁদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় পুঁজিবাজারে অর্থের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে ব্যাংকে বেশি সুদ পাওয়ার সুযোগ থাকলে অনেকেই শেয়ারবাজারে অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহ হারাতে পারেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারসাজি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে অর্থের প্রবাহ কতটা থাকবে, তা নির্ধারণে সুদহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতির প্রভাব রয়েছে। তাঁর আশা, এখন সুদহার না কমলেও ভবিষ্যতে কমানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অর্থনীতিতে গতি কম থাকলেও পুঁজিবাজার কিছুটা ভালো করার সুযোগ পেতে পারে।

পুঁজিবাজারে সংস্কারের নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও সুশাসন, স্বচ্ছতা ও আস্থার সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা না গেলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন তাই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষা; কবে কাটবে পুঁজিবাজারের দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা, কবে ফিরবে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ।