লাশ ফেরাতে সরকারের সহযোগিতা চান
চাঁদা না দেওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিকে হত্যা
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / 50
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারুফ বেপারি (৪৫) নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনেরা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে মারুফের মৃত্যুর খবর পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের বুষ্টার এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি।
মারুফ শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিড্যা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত আব্দুস সোবহান বেপারি। তিনি তিন সন্তানের জনক। তাঁর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের ভাষ্য, জীবিকার সন্ধানে ১৪ বছরেরও বেশি সময় আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান মারুফ। সেখানে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। বুষ্টার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিরাপত্তার নামে তাঁর কাছে প্রতি মাসে ৫০০ দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড চাঁদা দাবি করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি ওই চাঁদার টাকা নিয়ে গোষ্ঠীটির সঙ্গে মারুফের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরেই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় প্রবাসীরা। তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।
মারুফের মরদেহ বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা।
নিহতের স্বজন কামরুজ্জামান বেপারি বলেন, “চাঁদার জন্য বিদেশের মাটিতে আমার কাকা মারুফ বেপারিকে জীবন দিতে হয়েছে। ওখানকার দূতাবাস কি এগুলো দেখে না?”
তিনি আরও বলেন, পরিবারের এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া, দ্রুত মারুফের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা। এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সহযোগিতা চান তাঁরা।
দক্ষিণ আফ্রিকায় চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।





























