শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক আটক
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 26
গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপালকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় শিক্ষক স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন; এমন দাবি করে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে শিশুটির বাবাকে তাঁকে চড় মারতে দেখা যায়। পরে ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজনও ওই শিক্ষককে মারধর করেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ‘করিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’য় এ ঘটনা ঘটে। আটক শিক্ষকের নাম মুসলেউদ্দিন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার ভেতরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ওই শিশুকে অশালীনভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ নিয়ে শিক্ষককে প্রশ্ন করা হচ্ছে। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবা তাঁকে চড় মারেন। পরে উপস্থিত লোকজনও তাঁকে মারধর করেন। ভিডিওতে শিশুটির বাবাকে বলতে শোনা যায়, সন্তানের দ্বীনি শিক্ষার জন্য নিরাপদ মনে করে তাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, প্রায় তিন দিন আগে মাদ্রাসায় শিশুটি নিপীড়নের শিকার হয়। এরপর থেকে সে মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না এবং তার আচরণেও পরিবর্তন দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনা কাউকে জানালে মারধর করা হবে বলে শিশুটিকে হুমকি দিয়েছিলেন শিক্ষক। এ কারণে ভয়ে প্রথমে সে পরিবারের কাছে কিছু বলেনি।
পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি ঘটনা খুলে বললে বুধবার দুপুরে তার বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানতে চান। একপর্যায়ে ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শিক্ষককে মারধর করা হয়।
খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুসলেউদ্দিনকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























