ঢাকা ০১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদত্যাগের নেপথ্যে সংবাদমাধ্যমের ‘সিন্ডিকেট’: ইশরাক

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:১৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 18

পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ইশরাক হোসেন

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেই আলোচনার বিষয়বস্তু সামনে এনেছেন তিনি।

বেসরকারি্ একটি টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইশরাক জানান, ঘটনার প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনায় কী উঠে এসেছিল, তা নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন তিনি।

মাদকবিরোধী অভিযানের দিন কী ঘটেছিল, জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, একদল মাদকসেবী ও মাদকাসক্ত ব্যক্তি তাঁদের দিকে এগিয়ে এসেছিল। এর আগে তাদের কাছ থেকে পাইপগানসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই দিনও অস্ত্র উদ্ধার হয় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে রেখেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বর্ণনা দিয়ে ইশরাক বলেন, দুপুরে তাঁকে সময় দেওয়া হয়েছিল। সেখানে একান্তে দীর্ঘক্ষণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সময় হলে প্রধানমন্ত্রী সেখানে চলে যান। ইশরাক পাশের একটি কক্ষে অপেক্ষা করেন। এরপর তাঁকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডেকে নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবারও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়।

ইশরাক জানান, আলোচনা শেষে ভবিষ্যতে কীভাবে কাজ করবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে পদত্যাগের নির্দেশের বিষয়ে দলের প্রতি ক্ষোভ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপি কখনোই চাইবে না যে মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য পদত্যাগ করুন।

নিজের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারের জন্য কয়েকটি দৈনিক পত্রিকাকে দায়ী করে ইশরাক অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে একটি ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর কর্মকাণ্ডকেও বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।

ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনা নিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের অনেকেই সরাসরি ফোন করে তাঁর পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। প্রয়োজনে তাঁর কর্মকাণ্ডেও সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে ভবিষ্যতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে ইশরাক বলেন, ২০২০ সাল থেকে তাঁর সঙ্গে কাজ করা নেতাকর্মীরা তাঁকে ওই পদে দেখতে চেয়েছেন এবং এখনো চান।

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর ইশরাকের রাজনৈতিক ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিস্তারিত, পদত্যাগের নির্দেশের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর বক্তব্যের বাইরে আনুষ্ঠানিকভাবে আর কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পদত্যাগের নেপথ্যে সংবাদমাধ্যমের ‘সিন্ডিকেট’: ইশরাক

সর্বশেষ আপডেট ১২:১৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেই আলোচনার বিষয়বস্তু সামনে এনেছেন তিনি।

বেসরকারি্ একটি টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইশরাক জানান, ঘটনার প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনায় কী উঠে এসেছিল, তা নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন তিনি।

মাদকবিরোধী অভিযানের দিন কী ঘটেছিল, জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, একদল মাদকসেবী ও মাদকাসক্ত ব্যক্তি তাঁদের দিকে এগিয়ে এসেছিল। এর আগে তাদের কাছ থেকে পাইপগানসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই দিনও অস্ত্র উদ্ধার হয় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে রেখেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বর্ণনা দিয়ে ইশরাক বলেন, দুপুরে তাঁকে সময় দেওয়া হয়েছিল। সেখানে একান্তে দীর্ঘক্ষণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সময় হলে প্রধানমন্ত্রী সেখানে চলে যান। ইশরাক পাশের একটি কক্ষে অপেক্ষা করেন। এরপর তাঁকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডেকে নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবারও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়।

ইশরাক জানান, আলোচনা শেষে ভবিষ্যতে কীভাবে কাজ করবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে পদত্যাগের নির্দেশের বিষয়ে দলের প্রতি ক্ষোভ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপি কখনোই চাইবে না যে মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য পদত্যাগ করুন।

নিজের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারের জন্য কয়েকটি দৈনিক পত্রিকাকে দায়ী করে ইশরাক অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে একটি ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর কর্মকাণ্ডকেও বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।

ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনা নিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের অনেকেই সরাসরি ফোন করে তাঁর পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। প্রয়োজনে তাঁর কর্মকাণ্ডেও সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে ভবিষ্যতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে ইশরাক বলেন, ২০২০ সাল থেকে তাঁর সঙ্গে কাজ করা নেতাকর্মীরা তাঁকে ওই পদে দেখতে চেয়েছেন এবং এখনো চান।

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর ইশরাকের রাজনৈতিক ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিস্তারিত, পদত্যাগের নির্দেশের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর বক্তব্যের বাইরে আনুষ্ঠানিকভাবে আর কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর।