ঢাকা ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে মায়ের হৃদয়বিদারক সাক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৮:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / 161

পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার মা পারভীন আক্তার। ঘটনার দিন মেয়েকে খোঁজার মুহূর্ত থেকে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি। মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ৭ জুন।

ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। গত ২ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে ভুক্তভোগীর মা পারভীন আক্তার সাক্ষ্য দেন। বিচারক মাসরুর সালেকীন তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লে তাকে চেয়ারে বসার ব্যবস্থা করা হয়।

জবানবন্দিতে পারভীন আক্তার জানান, ঘটনার দিন ১৯ মে সকালে তিনি রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় একটি শিশুর চিৎকার শুনলেও প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। পরে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে দেখেন তাদের ঘরের মূল দরজা খোলা।

তিনি ধারণা করেছিলেন, বড় মেয়ে সাইসা ছোট বোন রামিসাকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে গেছে। তবে কিছুক্ষণ পর বড় মেয়ে একা ফিরে এসে জানায়, রামিসা একাই সেখানে গেছে। এরপর তিনি বাসার নিচে ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে সোহেল রানার ঘরের সামনে রামিসার একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখে তার সন্দেহ হয়। ডাকাডাকির পর স্বপ্না নামের এক নারী জানান, রামিসা সেখানে নেই। কিন্তু দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।

পারভীন আক্তার আদালতকে জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা খোলার চেষ্টা করা হলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে লকের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে স্বপ্না আক্তারকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। একই সঙ্গে বাথরুমের সামনে রক্তের মতো কিছু দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি।

পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর একাধিক কক্ষের দরজা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়। সর্বশেষ সোহেলের ঘরে ঢুকে খাটের নিচ থেকে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই দৃশ্য দেখে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে আদালতকে জানান।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আগামী ৭ জুন মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে মায়ের হৃদয়বিদারক সাক্ষ্য

সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৮:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার মা পারভীন আক্তার। ঘটনার দিন মেয়েকে খোঁজার মুহূর্ত থেকে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি। মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ৭ জুন।

ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। গত ২ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে ভুক্তভোগীর মা পারভীন আক্তার সাক্ষ্য দেন। বিচারক মাসরুর সালেকীন তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লে তাকে চেয়ারে বসার ব্যবস্থা করা হয়।

জবানবন্দিতে পারভীন আক্তার জানান, ঘটনার দিন ১৯ মে সকালে তিনি রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় একটি শিশুর চিৎকার শুনলেও প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। পরে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে দেখেন তাদের ঘরের মূল দরজা খোলা।

তিনি ধারণা করেছিলেন, বড় মেয়ে সাইসা ছোট বোন রামিসাকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে গেছে। তবে কিছুক্ষণ পর বড় মেয়ে একা ফিরে এসে জানায়, রামিসা একাই সেখানে গেছে। এরপর তিনি বাসার নিচে ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে সোহেল রানার ঘরের সামনে রামিসার একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখে তার সন্দেহ হয়। ডাকাডাকির পর স্বপ্না নামের এক নারী জানান, রামিসা সেখানে নেই। কিন্তু দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।

পারভীন আক্তার আদালতকে জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা খোলার চেষ্টা করা হলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে লকের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে স্বপ্না আক্তারকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। একই সঙ্গে বাথরুমের সামনে রক্তের মতো কিছু দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি।

পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর একাধিক কক্ষের দরজা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়। সর্বশেষ সোহেলের ঘরে ঢুকে খাটের নিচ থেকে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই দৃশ্য দেখে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে আদালতকে জানান।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আগামী ৭ জুন মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন।