রামিসা হত্যা বিচার দাবি ধর্ষণ আইন সংস্কার জোটের
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
- / 35
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট।
পাশাপাশি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইনের সঠিক প্রয়োগ, সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত সহ ভুক্তভোগী সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে এ জোট।
গত ১৯ মে রামিসা স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শিশুটিকে তার ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে হত্যা করে। পল্লবী থানার পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, শিশু রমিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ মে অপর একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে নেত্রকোণার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামে ‘হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসায় ২য় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ১১ বছর বয়সী কন্যা শিশুকে ধর্ষণ করে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর। ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ায় শিশুটি ভয়ে দীর্ঘ সময় বিষয়টি গোপন রাখে ।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত পাঁচ মাস মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন এবং একইসাথে, অবনতি ঘটলে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হলে জানতে পারে যে সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় গত ৩০ এপ্রিল ঐ শিশুটির মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মদন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পাশাপাশি অপর একটি প্রতিবেদনে জানা যায় যে, গত ১৯ মে পাবনার চাটমোহরে টাকার প্রলোভন ও ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে ঘরে ডেকে নিয়ে ৫ম শ্রেণির এক স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে একই গ্রামের আব্দুল জলিল (৪৮)।
এ ঘটনায় ২০ মে চাটমোহর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও অপর এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য হতে জানা যায় যে, গত ১৯ মে রাজধানীর বনশ্রীর সি-ব্লকের ‘আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসা’ য় অধ্যয়নরত ছাত্র মো. আবদুল্লাহ (১০) এর মরদেহ গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় শিশুটির শরীরে অস্বাভাবিক যৌনাচার বা বলাৎকারের আলামত পান পুলিশ কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় মৃত আবদুল্লাহর মা বাদী হয়ে রামপুরা থানায় একই মাদ্রাসার অপর ছাত্র শিহাব হোসেন (১৯) সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ২০ মে রাত ৮টায় শিহাব হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের সহিংসতা থেকে নাগরিকদের বিশেষত নারী ও শিশুদের সুরক্ষা প্রদান করা রাষ্ট্রের একটি বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।
এছাড়াও এ ধরনের সহিংসতা দেশে বিদ্যমান আইন- বিশেষত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত) ২০২৬ ও শিশু আইন, ২০১৩ এবং নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ বিষয়ক জাতিসঘের সনদ (সিডও) এর সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। পরিশেষে, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত এ সহিংসতার ঘটনা সমূহের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি জানাচ্ছে ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট।
পাশাপাশি, ভুক্তভোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে এ জোট। একইসাথে, এ ধরনের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত কার্যকরী এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসন ও ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ আবেদন জানিয়েছে এ জোট।


































