বান্দরবানে জব ফেয়ার, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- / 116
বান্দরবানের দক্ষ নারী ও কিশোরীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জব ফেয়ার ২০২৬’। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বান্দরবানের হিল ভিউ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ মেলায় পর্যটন, ব্যাংকিং, আইসিটি, রিটেইল ও আতিথেয়তা খাতের ২০টিরও বেশি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল বিডিজবস, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং, সম্ভব জবস এবং সাইরু হিল রিসোর্ট। প্রতিটি স্টলে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সরাসরি সাক্ষাৎকার, সিভি যাচাই এবং ক্যারিয়ার পরামর্শের ব্যবস্থা রাখা হয়। ফলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণীরা নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পান।
‘স্বপ্নের সারথী- গার্লস এডুকেশন অ্যান্ড স্কিলস পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের আওতায় এই জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়। যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের অর্থায়নে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
আয়োজকরা জানান, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো প্রান্তিক অঞ্চলে দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, চলাফেরার সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে নারীদের শ্রমবাজারে প্রবেশ এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে। এসব বাধা দূর করে দক্ষ তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, “বান্দরবান জেলায় পর্যটন ও সেবা খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়লেও স্থানীয় পর্যায়ে সেই চাহিদা পূরণে এখনও ঘাটতি রয়েছে। এই জব ফেয়ার সেই ঘাটতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ফাহমিদা শবনাম বলেন, “প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেয়েরা কাজের সুযোগ পেলে খুব দ্রুত নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে। এই মেলা তাদের জন্য সেই সুযোগ তৈরি করছে।”
প্রকল্প সমন্বয়কারী জাহিদ হোসেন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়, প্রশিক্ষিত মেয়েদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করা। এই জব ফেয়ার দক্ষ তরুণীদের সঙ্গে স্থানীয় নিয়োগদাতাদের সরাসরি যুক্ত করছে। আমরা চাই প্রতিটি মেয়ে প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি বা উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের একটি গন্তব্য খুঁজে পাক।”
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘স্বপ্নের সারথী’ উদ্যোগের আওতায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১০০ জন নারী ও কিশোরীকে খাবার পরিবেশন, রিটেইল, হাউসকিপিং এবং কম্পিউটার দক্ষতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোবাইল প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্গম এলাকার ১ হাজার ৩২০ জনের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে ‘পাসপোর্ট টু আর্নিং’ প্ল্যাটফর্মে ৫ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী ডিজিটাল দক্ষতা ও নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন।
আয়োজকরা আরও জানান, এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আগামী ১৮ জুন কক্সবাজারের হোটেল সি প্যালেসে আরেকটি জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।





























