বাংলাদেশি কর্মীদের শ্রম ভিসা বন্ধ করলো লাওস
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 11
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওসে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার সাময়িকভাবে স্থগিতের কারণ খুঁজছে বাংলাদেশ। তবে লাওস সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বড় না হলেও বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনা এবং অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে এ বিষয়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট ও প্রবেশ ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে লাওস। ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই স্থগিতাদেশ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চার মাস বহাল থাকবে।
এ সময়ে লাওসে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি কর্মীদের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট জমা না দেওয়া এবং কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। তবে ৩১ ডিসেম্বরের পর এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়বে কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে কিছু জানানো হয়নি।
এ ছাড়া লাওস ঠিক কী কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা স্থগিত করেছে, সেটিও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট কোনো কারণের কথা লাওস বাংলাদেশকে জানায়নি।
এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর লাওসের সংবাদপত্র দ্য লাওসিয়ান টাইমসের এক প্রতিবেদনে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া, শ্রমিক আমদানির পরিকল্পনা এবং শ্রম প্রকল্প অনুমোদন স্থগিতের কথা জানানো হয়। তবে চুক্তি অনুযায়ী কাজের সময়সূচি নির্ধারিত এবং লাওস সরকারের অনুমোদিত বড় অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো এই স্থগিতাদেশের আওতামুক্ত থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অবৈধ প্রবেশ ও মানব পাচার ঠেকাতে পদক্ষেপ
লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ৯ সেপ্টেম্বরের আদেশের বরাত দিয়ে দ্য লাওসিয়ান টাইমস জানিয়েছে, অবৈধ প্রবেশ, মানব পাচার, অননুমোদিত শ্রমিক সরবরাহকারী এবং বিদেশ থেকে শ্রমিক আনার পর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নিয়োগদাতাদের নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে কেন এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে লাওসের শ্রম মন্ত্রণালয়ের আদেশে সুস্পষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানিয়েছেন, লাওস ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে বাংলাদেশি কর্মীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এ কারণে এসব দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
দ্য লাওসিয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন আদেশ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি, নিয়োগদাতা বা শ্রমিক সরবরাহকারী স্বাধীনভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের লাওসে প্রবেশ বা কর্মসংস্থানের অনুমতি দিতে পারবে না।
নির্দেশনা অমান্য করলে আর্থিক জরিমানা, নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে লাওস সরকার।
অনুমোদন ছাড়া শ্রমিক আনা বা নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাকে প্রতিটি ঘটনায় শ্রমিকপ্রতি ২৫ লাখ লাও কিপ বা ১১০ মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে। অন্য কোনো শ্রমিক ইউনিটে নিয়োগের উদ্দেশ্যে শ্রমিক আনলেও একই হারে জরিমানা দিতে হবে।
এ ছাড়া অন্য শ্রমিক ইউনিটের জন্য নির্ধারিত কোনো কর্মীকে কাজে নিয়োগ বা গ্রহণ করলে নিয়োগদাতাকে প্রতিটি ঘটনায় শ্রমিকপ্রতি ২০ লাখ লাও কিপ বা ৮৯ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হবে।
অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত কর্মস্থলের বাইরে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে প্রতিটি ঘটনায় ১০ লাখ লাও কিপ বা ৪৪ মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে। একই সঙ্গে তাকে ৩০ দিনের মধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই কর্মীদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং যাতায়াতের সব খরচ সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা বা আইন লঙ্ঘনকারী পক্ষকে বহন করতে হবে।
একই ধরনের অপরাধ পুনরায় ঘটলে জরিমানার পরিমাণ তিন গুণ করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে লাওস সরকার।



































