চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি গ্রেপ্তার, পাসপোর্ট এক বাংলাদেশির জিম্মায়
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:১০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 19
চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের ৬৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চীন, লাওস, পাকিস্তান, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক। তাদের কাছ থেকে অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস, সরঞ্জাম ও নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ৬৩ জনের কারও পাসপোর্ট উদ্ধার করা যায়নি। একজন বাংলাদেশির হেফাজতে তাদের পাসপোর্ট রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। ফলে তারা বৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন কি না এবং কোন ধরনের ভিসায় দেশে প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই বাংলাদেশিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবুল মনসুরের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে সন্ধ্যায় তাদের চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চীনের পাঁচজন, লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, নেপালের দুজন ও ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী।
১৪টি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে প্রতারণা
পুলিশ জানায়, প্রায় দেড় মাস আগে চক্রটির সদস্যরা চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি আটতলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। ভবনটির মালিক একজন দুবাইপ্রবাসী।
পুলিশের অভিযোগ, ওই ভবন থেকেই বিভিন্ন ওয়েবসাইট, মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণা চালিয়ে আসছিল চক্রটি। কখনো নিজেদের তৈরি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে, আবার কখনো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।
এ ছাড়া ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য হ্যাক করে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে চক্রটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জব্দ করা ডিভাইস পরীক্ষা করছেন ঢাকার একটি বিশেষজ্ঞ দল।
পুলিশের ধারণা, বাংলাদেশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালাতে চক্রটিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে আসছিলেন। এসব সহযোগীর মধ্যে কয়েকজন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
জব্দ ১৭০ ধরনের ডিভাইস ও সরঞ্জাম
আটতলা ভবনটিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৭০ ধরনের ডিভাইস ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৩৪টি পুরোনো ও ব্যবহৃত মুঠোফোন, একটি পুরোনো অ্যাপল ট্যাব, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি সিপিইউ, একটি মনিটর ও পাঁচটি পেনড্রাইভ। এ ছাড়া তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহম্মদ বলেন, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলায় তারা প্রতারণার কার্যক্রম চালাতে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ভাড়া নেওয়া ভবনের ১৪টি ইউনিটে সার্ভার, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বাংলাদেশে অবস্থানের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তারা কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজারে থাকা কোনো প্রতারক চক্রের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সহজে চালানোর উদ্দেশ্যেই চক্রটি ওই ভবন ভাড়া নিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভাড়াটিয়াদের কার্যক্রমে তুলনামূলকভাবে নজরদারি কম থাকায় তারা এ ধরনের ভবন বেছে নিয়েছে।
পাসপোর্টের বিষয়ে তিনি বলেন, ৬৩ জনের কারও পাসপোর্ট পুলিশ পায়নি। একজন বাংলাদেশি তাদের পাসপোর্ট নিয়ে গেছেন। ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তাকে পাওয়া গেলে চক্রটির বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযানে পুলিশের পাশাপাশি একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা সংস্থা সহযোগিতা করেছে।





























