ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রবীণদের সামাজিক সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 19

প্রবীণ দিবসের আলোচনা

প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ পারিবারিক ও সামাজিক সম্পদে পরিণত করতে সরকার, পরিবার ও সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-দশমাংশ বা ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ষাটোর্ধ্ব। ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বেড়ে ২০ শতাংশের বেশি বা প্রায় ৫ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের গড় আয়ুও বাড়ছে। ফলে প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে শুধু বয়সের সংখ্যা হিসেবে না দেখে তাদের সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, অস্বচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার যে ভাতা চালু রেখেছে, তা যথেষ্ট নয়। বয়স্ক মানুষের কল্যাণে এ ভাতার পরিমাণ ও আওতা আরও বাড়াতে হবে, যাতে অধিকসংখ্যক প্রবীণ এর সুফল পান।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নবজাতক থেকে প্রবীণ—জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ের মানুষের জন্য মানবিক ও সমষ্টিকেন্দ্রিক সমাজ গঠনে কাজ করছে। প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বিক কল্যাণে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও সরকারের একার পক্ষে সব লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ কাজে সামাজিক সংগঠন, পরিবার ও প্রবীণদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানের আগে আগারগাঁও প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সামনে থেকে নবীন-প্রবীণের মিলনমেলায় আয়োজিত র‌্যালিতে অংশ নেন মন্ত্রী। র‌্যালিটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।

এবারের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’। অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রবীণদের জন্য প্রবীণবান্ধব হাসপাতাল, গণপরিবহন ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, আয় ও সঞ্চয়ের নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষমতাহীনদের সামাজিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানান।

আলোচকরা বলেন, বিশেষ করে প্রবীণ নারীরা দীর্ঘ জীবনে নানা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সম্পদের মালিকানায়ও তারা পিছিয়ে রয়েছেন। তাই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, নতুন দক্ষতা অর্জন, কর্মসংস্থান, আবাসন ও খাদ্য সহায়তার সুযোগ বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম। এছাড়া প্রবীণ হিতৈষী সংঘের নেতারা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষার্থী ও প্রবীণ নাগরিকরা আলোচনায় অংশ নেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রবীণদের সামাজিক সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ পারিবারিক ও সামাজিক সম্পদে পরিণত করতে সরকার, পরিবার ও সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-দশমাংশ বা ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ষাটোর্ধ্ব। ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বেড়ে ২০ শতাংশের বেশি বা প্রায় ৫ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের গড় আয়ুও বাড়ছে। ফলে প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে শুধু বয়সের সংখ্যা হিসেবে না দেখে তাদের সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, অস্বচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার যে ভাতা চালু রেখেছে, তা যথেষ্ট নয়। বয়স্ক মানুষের কল্যাণে এ ভাতার পরিমাণ ও আওতা আরও বাড়াতে হবে, যাতে অধিকসংখ্যক প্রবীণ এর সুফল পান।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নবজাতক থেকে প্রবীণ—জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ের মানুষের জন্য মানবিক ও সমষ্টিকেন্দ্রিক সমাজ গঠনে কাজ করছে। প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বিক কল্যাণে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও সরকারের একার পক্ষে সব লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ কাজে সামাজিক সংগঠন, পরিবার ও প্রবীণদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানের আগে আগারগাঁও প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সামনে থেকে নবীন-প্রবীণের মিলনমেলায় আয়োজিত র‌্যালিতে অংশ নেন মন্ত্রী। র‌্যালিটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।

এবারের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’। অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রবীণদের জন্য প্রবীণবান্ধব হাসপাতাল, গণপরিবহন ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, আয় ও সঞ্চয়ের নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষমতাহীনদের সামাজিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানান।

আলোচকরা বলেন, বিশেষ করে প্রবীণ নারীরা দীর্ঘ জীবনে নানা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সম্পদের মালিকানায়ও তারা পিছিয়ে রয়েছেন। তাই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, নতুন দক্ষতা অর্জন, কর্মসংস্থান, আবাসন ও খাদ্য সহায়তার সুযোগ বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম। এছাড়া প্রবীণ হিতৈষী সংঘের নেতারা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষার্থী ও প্রবীণ নাগরিকরা আলোচনায় অংশ নেন।