ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পৈশাচিক লালসার বলি চার মাসে ৯ শিশু

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:১১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • / 38

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা

চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই দেশজুড়ে ৭৫ জন অবুজ শিশু বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়েছে এবং এর মধ্যে ৯টি শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অপরাধবিজ্ঞানী ও বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কোমলমতি রামিসা কিংবা আছিয়াদের খুনিরা মূলত ‘সাইকোপ্যাথিক পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার’ বা বিকৃত মানসিক বিকারগ্রস্ততায় আক্রান্ত, যাদের অপরাধের ধরণ অনেকটা ঠান্ডা মাথার সিরিয়াল কিলারদের মতো।

মাদকাসক্তি, পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা, পারিবারিক অবক্ষয় এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই ঘরে-বাইরে চেনা মানুষদের হাত দিয়ে শিশুদের ওপর এমন পৈশাতিক বর্বরতাপূর্ণ সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ও শিশুদের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আজ চরম এক মনস্তাত্ত্বিক সংকটের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক অবুজ কন্যাশিশুকে চেনা প্রতিবেশীদের হাত দিয়ে নির্মমভাবে বলি হতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের বিবেককে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

মূলত চার মাসে ৯ শিশু হত্যা ও ধর্ষণ শিরোনামের এই ভয়াবহ পরিসংখ্যানটি প্রমাণ করে যে, সমাজে ওত পেতে থাকা একশ্রেণীর মানুষ কতটা বিকৃত রুচির ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে শিশুর গলা কাটা নিথর দেহ উদ্ধার কিংবা পল্লবীর দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী রামিসাকে টুকরো টুকরো করে হত্যার ঘটনাগুলো এর জ্বলন্ত উদাহরণ।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম রাব্বানী জানিয়েছেন, এই পিশাচরা কোনো সাধারণ রোগে আক্রান্ত নয়, বরং এটি এক ধরণের বিশেষ মানসিক বিকার। বর্তমানে চার মাসে ৯ শিশু হত্যা ও ধর্ষণ এর মতো জঘন্য ঘটনাগুলো ঘটানোর পর এই অপরাধীরা এক ধরণের পৈশাচিক আনন্দ লাভ করে।

এরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়, সুপরিকল্পিত উপায়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সাথে মিশে যায় এবং অপরাধ করার পর নিজেদের বাঁচানোর তাগিদে কিংবা প্রমাণ লোপাটের জন্য অবলীলায় শিশুদের গলা কেটে ফেলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মো. রেজাউল করিম সোহাগ ও মানবাধিকার নেত্রী এলিনা খান এই সামাজিক পচনের পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করেছেন। বর্তমানে চার মাসে ৯ শিশু হত্যা ও ধর্ষণ এর মতো সহিংসতার প্রসারের প্রধান উৎস হলো হাতের নাগালে থাকা মাদক ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া বিকৃত শিশুপর্নো।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পৈশাচিক লালসার বলি চার মাসে ৯ শিশু

সর্বশেষ আপডেট ১২:১১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই দেশজুড়ে ৭৫ জন অবুজ শিশু বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়েছে এবং এর মধ্যে ৯টি শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অপরাধবিজ্ঞানী ও বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কোমলমতি রামিসা কিংবা আছিয়াদের খুনিরা মূলত ‘সাইকোপ্যাথিক পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার’ বা বিকৃত মানসিক বিকারগ্রস্ততায় আক্রান্ত, যাদের অপরাধের ধরণ অনেকটা ঠান্ডা মাথার সিরিয়াল কিলারদের মতো।

মাদকাসক্তি, পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা, পারিবারিক অবক্ষয় এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই ঘরে-বাইরে চেনা মানুষদের হাত দিয়ে শিশুদের ওপর এমন পৈশাতিক বর্বরতাপূর্ণ সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ও শিশুদের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আজ চরম এক মনস্তাত্ত্বিক সংকটের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক অবুজ কন্যাশিশুকে চেনা প্রতিবেশীদের হাত দিয়ে নির্মমভাবে বলি হতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের বিবেককে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

মূলত চার মাসে ৯ শিশু হত্যা ও ধর্ষণ শিরোনামের এই ভয়াবহ পরিসংখ্যানটি প্রমাণ করে যে, সমাজে ওত পেতে থাকা একশ্রেণীর মানুষ কতটা বিকৃত রুচির ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে শিশুর গলা কাটা নিথর দেহ উদ্ধার কিংবা পল্লবীর দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী রামিসাকে টুকরো টুকরো করে হত্যার ঘটনাগুলো এর জ্বলন্ত উদাহরণ।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম রাব্বানী জানিয়েছেন, এই পিশাচরা কোনো সাধারণ রোগে আক্রান্ত নয়, বরং এটি এক ধরণের বিশেষ মানসিক বিকার। বর্তমানে চার মাসে ৯ শিশু হত্যা ও ধর্ষণ এর মতো জঘন্য ঘটনাগুলো ঘটানোর পর এই অপরাধীরা এক ধরণের পৈশাচিক আনন্দ লাভ করে।

এরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়, সুপরিকল্পিত উপায়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সাথে মিশে যায় এবং অপরাধ করার পর নিজেদের বাঁচানোর তাগিদে কিংবা প্রমাণ লোপাটের জন্য অবলীলায় শিশুদের গলা কেটে ফেলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মো. রেজাউল করিম সোহাগ ও মানবাধিকার নেত্রী এলিনা খান এই সামাজিক পচনের পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করেছেন। বর্তমানে চার মাসে ৯ শিশু হত্যা ও ধর্ষণ এর মতো সহিংসতার প্রসারের প্রধান উৎস হলো হাতের নাগালে থাকা মাদক ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া বিকৃত শিশুপর্নো।